৭ম বর্ষ ৩৩তম সংখ্যা ২৬ জুন ২০১৮

এই সংখ্যায় ২৬টি কবিতা । লিখেছেন জ্যোতির্ময় নন্দী, বিজয় ঘোষ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, মৌ মধুবন্তী, সৌমেন গুহ রায়, সুবীর সরকার, পিনাকী দত্তগুপ্ত, গোলাম কিবরিয়া পিনু, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, আসমা অধরা, তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়, শাশ্বতী সরকার (টালিগঞ্জ), রুকসানা কাজন, পল্লব সেনগুপ্ত, সুনীতি দেবনাথ, সুকান্ত মজুমদার, অরুণ সেনগুপ্ত, অপর্ণা বোস, উজান উপাধ্যায়, মৌসুমী মন্ডল দেবনাথ, স্বপ্ননীল রুদ্র, স্নিগ্ধা বাউল, ওয়াহিদ জালাল, শর্বাণী রিঙ্কু গোস্বামী, গৌতম পাল ও দেবাশিস কোনার ।

       সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন

জ্যোতির্ময় নন্দী

বর্ষা আছে অনুষঙ্গ নেই

বর্ষা আছে এ-শহরে, মেঘমেদুর অনুষঙ্গ নেই।
নিরন্তর বাঞ্ছিত বা অবাঞ্ছিত সঙ্গময় এ-শহরে
চাই বা না-চাই -- কিছুতেই থামাতে পারি না হায়
আসঙ্গ বুভুক্ষু এই অজগরে গিলে খাওয়া
আমার বেচারা আত্মাটিকে।
অথচ তবুও নেই গাঢ় কোনো রং, সব --- সব শুধু ফিকে
চারদিকে। বর্ষা আছে, স্তরে স্তরে সঞ্চালিত মেঘমালা নেই,
শুধু সারি সারি দালানের ম্লান স্নাত মুখ আমার করোটিকে
ক্লান্ত করে খুব; অশান্তির তেরছা বিজলি ফালা ফালা
 
করে কাটে হৃৎপিণ্ড; রাস্তার ফাটল কিংবা নালা দিয়ে
গলগলিয়ে ছুটে আসে শহরের রক্ত পুঁজ ক্লেদ।
পুব হাওয়াতে দেয় দোলা মরি মরিকোন্ সে-জানালা--
খুঁজে দেখি, নিরন্তর না-পাওয়ায় ভারাক্রান্ত
বর্ষা ঘটিয়েছে যত অনুষঙ্গের সাথে অসীম বিচ্ছেদ।
দুরাসদ শ্রাবণ এখানে অঝোরে কাঁদে নাগরিক অন্ধ গলিতে।

বিজয় ঘোষ

যে রাত্রি একাকী

অনন্ত সৌন্দর্য ছুঁয়ে আছে সিন্ধু সভ্যতার রাত্রি।রাত্রি শুধুই একাক্ষরা
বীজমন্ত্র।অলৌকিক আলো ছড়ায় নিকষ কালো রাত্রি।


যে পথ গিয়েছে নদীর কাছে।শিশিরের রাতে।সে ও ফিরে ফিরে আসে।
অন্ধকারে।এক শৃঙ্গের হরিণের মতো রাত্রি জেগে রয়।অপরূপা চিত্রানক্ষত্রের গায়।


তারও পরে গভীর রাতে একা।একাকী রাত্রি হেঁটে হেঁটে যায়।
যেমন করে হেঁটে যেত সিন্ধুসভ্যতার সেই অপরূপা গভীরসমুদ্রচোখের,
শ্বেতস্তনের মেয়েটি, হরপ্পার পথে।একা একা।প্রিয়তমের কুঞ্জকাননে।

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

একার কবিতা

একা থাকার অভ্যাস করে এক একটা সন্ধ্যা
বেহালা বেজে যায় পাশের বাড়িতে
ধূসর বিড়ালটি পার হয়ে গেলে
পাঁচিল
বইয়ের অক্ষরগুলো কী নীরব অভিমানে চোখে বসে থাকে!
বাইরে কোথাও মেঘ না থাকলেও
সন্ধ্যের ভিতর বৃষ্টির ঝরা
ভাসাতে ভাসাতে নির্জন দ্বীপে
সেখানে শান্তি মন্ত্রের মতো বাজে
অসহ্য শব্দের বাইরে এ যেন
সহ্যের পাঠ
জুঁই ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে যায়

মৌ মধুবন্তী

উড়িয়ে দেবো প্রতিবন্ধকতা
                   
প্যাঁচা নামে চাঁদজোছনায়,
মায়ামাঠ শীত কাঁচুলি গায়ে দিয়ে দৌড়ায় অনভ্যাসের আলপথে-

ওখানে শংখ কুসুম বিভাস!!

জড়োয়া হাসি,ঝুল বারান্দায় নাটকীয় ছায়া
ছায়ার ভেতরে জ্বর কাঁপছে কাকন হাতে
নিজ গৃহকোণে নিজেই সীমানা টানে।

হায় জীবনের কংকনা!!

শীতল দুপুর নেশার ঘোরে ইশারা করে
অপেক্ষার নদী ভাঁজ করে রাখে দুই হাতে
উপেক্ষা করে ইশারা, কাছেই কিছু দুরত্ব জমায়-

কুমড়ো ফুলের মত চোখ দুটো হলুদফোঁটা
অবজ্ঞাচ্ছলে পানি ঢালে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। কিছু পানি গড়িয়ে পড়ে।
কিছু জমে থাকে, চোখে আর কত ধরবে
এই নারকীয় যন্ত্রণা।

একমাত্র মানুষই পারে বহুদূর হেঁটে গিয়ে ফিরে আসতে।  পায়ে পায়ে পথ বাড়ে,
পায়ের তলায় জমাট ভূগোল, আখরোট
চুম্বন, নচিকেতা দামাল-সামাল, অনিমেখ
কামনার শিরশির অনুভূতি , সব কিছু এক পাহাড় সমান দাঁড়িয়ে পড়ে পথ আগলে।

নীরবে,নি:শব্দে দু:খ জমে জমে পাহাড়
পাহাড়ের গায়ে আজ বিকট শব্দ,ভাংগচুর
এখন সমাজ সভ্যতা সবাই একজোট।
এতো আওয়াজ কেন?
পাহাড় ভাংগতে আওয়াজ হবে
আওয়াজ হবে অন্দর খুলতে
দু:খ গড়েছে পাথর,পাথর গড়িয়ে পড়ছে
শব্দের উতস,ইতিহাস সব রচনা করা হয়েছে
শব্দের ভেতরে গাঁথুনির বিকট আর্তনাদ আজ সময়কে ধারণ করতে ব্যর্থ বটে, তবু
একদিন সবকিছু শুনশান শীতল মাঠমায়া
হবে,ইচ্ছের পংক্তিমালা ফোটাক বাতাসে
আর্তনাদের বোমারু।
আমি ফিরে যাব যে পথ আমাকে যেতে দেয়নি আমার লক্ষ্যে।

আমি ফিরে যাবোই।
যাবো-

সৌমেন গুহ রায়

অমরত্বের অভিযোজনায়

শবানুগমন করতে করতে
ছড়িয়ে দি
আমার ব্রহ্মবিদ্যা ঈশ্বরীয় কথন অনুগামী আহত সংলাপ
রাজদানা খৈ
খুচরো পয়সার মত পাতানো সম্পর্কের শ্লেষ
রাজপথে বৈরাগ্য অপেক্ষায়
বটের শাখায়

কাকে দিয়ে যাব আজ
নিভৃত বিষাদ অস্তরাগের আলো কীটদষ্ট কুসুম আর
চুম্বনের অন্তর্লীন আবেগ

সব রহস্যময়তা গায়ে মেখে তখনো এক অন্য ভোর দরজায়
সব সাজ আপনি যাচ্ছে সরে
শেষ সুতোয় সমর্পণের অনুরণন

সুবীর সরকার

সার্কাস


যদিও জীবনমরণ,অন্ধ হতে থাকা
গানকে প্রবাদ ভাবলে সহনীয় রোদ
দশ হাত দূরে দড়ির
                মই
পোশাক পালটে আসে জোকার


হাসিটুকু ফিরিয়ে দিয়ে শস্যখামারে
                                 যাবো
হুল্লোড়ের পর পাখিরা ডেকে উঠলে
শ্যাওলার মধ্যে আঙুল ডুবিয়ে
                           দেওয়া






পিনাকী দত্ত গুপ্ত

পরিযায়ী
                                       
নদীর ধারে বুড়ো বট। দুপাশে জীর্ণ ঘাট, ঝরে যাওয়া পাতা,
আর একটা মাঝবয়সী দোকান। গাছ থেকে নেমে আসা ঝুড়ি
আর একটা দময়ন্তী দুপুর মাটির ভাঁড়ের চা, চিনি দেওয়া বিস্কুট,
সোনাঝুড়ি রমণীর শীর্ণ হাত,লোম ওঠা একটা মেটে কুকুর,
আর ধরে নাও তুমি,আমি আর কিছু পরিযায়ী পাখি
কেউ বলেছিলো,বড়লোকের খেয়াল! কেউ ভেবেছিলো মোমের সংসার!
তুমি বলেছিলে - আবার আসবে একদিন? আমি সেদিনও কিছু বলিনি।
আমি আজও কিছু বলি না। শুধু তুমি যখন হাত রেখেছিলে আমার মধ্যবিত্ত হাতে,
আমি খুঁজেজিলাম কিছু পরিচিত মুখ,পাছে কেউ দেখে ফেলে!
পাছে কেউ ডেকে বলে,আছিস কেমন ?
আজ যখন ঘিরে রাখে অনামিত্র রাত,সময়ের ধুসর ঝুরি নেমে আসে
নিবিড় নীল বৃত্ত থেকে, আর হঠাৎ ঝলসে ওঠে তোমার সুখের শরীর,
সন্তর্পনে আমি এদিকে ওদিকে চেয়ে দেখি...
পাছে কেউ দেখে ফেলে,আমার মাটির ঘরে আজও চাঁদ নেমে আসে মাঝে মাঝে।
দেওয়ালে ঝুলতে থাকা ক্যালেন্ডারের নীল চাঁদ।।


গোলাম কিবরিয়া পিনু

তুল্য-মূল্য

পয়সার তুল্য-মূল্য ভেবে
আমাকে রেখেছো
ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে গোপনে লুকিয়ে
আমি টের পাই!
আমাকে রাখার আর কোন্ স্থান নেই?
অন্যকোনো তুলাদণ্ডে তুল্য-মূল্য নেই?
বার বার দেখ
আমাকে সজোরে নজরে
ভ্যানিটি ব্যাগের বোতামটা খুলে
সেখানেই চোখ যায়
সেখানেই মাপজোক
সেখানেই আকর্ষণ!



ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়

খড়কুটো

খড়কুটো দিয়ে সংসার সাজাই
ফেলে দেওয়া কুরুশকাঠি,শ্যাওলায় ভেসে যাওয়া কুটো
ঝড়ে ভাঙ্গা ডাল
যা থেকে ঝরে পড়ে পাতা দুটো
এ সবই নিত্যদিনের কাজ

তাদের রাখো
,ঝাড়ো,বাছো,রোদে দাও,সেলাই করো
সবই মনে হয় অকাজ
কাজ আর হল কই!

হঠাৎ একদিন একটা খড় পাই
হ্যাঁ
খড়কুটো নয়,একেবারে আস্ত
ইশ্‌...আমার যদি থাকত!

খড়ের সামনে গিয়ে হাঁ করে বসে থাকি
তার রূপ দেখি
তার গুণ দেখি
 
তার কথা শুনি
 
আর তারপর গুটি গুটি পায়ে গিয়ে তার হাত ধরি
আমার খড়কুটোর সংসার তখন টলমল...টলমল

খড় হেসে বলে
,ভয় কি! আমিও আছি এই মেরামতিতে 

সকালবেলায় চোখ খুলে দেখি
খড় ধরা আছে আমারই হাতে...!
  

 



আসমা অধরা

আমাদের বেঁধে থাকা নেই

আমাদের বেঁধে থাকা নেই,
ছিলোনা জড়িয়ে রাখা। গুল্ম দেখে
ভাবনা নেই, একহারা এক পথ-
সেখানেই ছিলো শুধু ঝরে পড়ে থাকা।

তবু,
বয়স নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিলোনা
এই যে তীব্র ত্রিশোর্ধ্ব বলে চলেছো
কী হয় তাতে! পা এগুলেই পথ- বোঝোনি যা;
প্রকৃতপক্ষে রূপের পাশেই আশংকা থাকে
বা, দিচ্ছো একাকী বিষাদ উঁকি দেয়া জানালা...

আয়তন বা পরিমাণে কম হলেও
দেবতার হাত ভরা থাকে সুতোয়।
পোষা বেড়ালের মতো নাচো, খেলে যাও
কাগজের বল নিয়ে বেলতলায়;
ত্রিশের আগেই পাক ধরবে জুলফির পাশে
চুলের গুমটি জুড়ে আসবে রুপোলী ঝিলিক..

আর, বাতাস!
সে কোন সাদা বা লাল রঙের
আন্ডার গার্মেন্টস নয় যে, আংটায় ঝুলে
থেকে যাবে পাশে, বারোমাস

তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়

বিমূর্ত আসবাব

আরও কটা দিন থেকে যাও নাহয়।
হাতে হাত কিংবা নিরঙ্কুশ হৃদয়বৃত্ত ছেড়ে
সমর্পণ করো সেসব আকাঙ্ক্ষায়...
যেসব আকাঙ্ক্ষার কাছে ঋণী থাকে নিহত সময়।

 আর নাম?

বিমূর্ত আসবাব।

শাশ্বতী সরকার (টালিগঞ্জ)

আজও গ্রামে গ্রামে

মেয়েটা ভাইকে পরিপাটি করে
দিয়ে আসে সরকারী স্কুলে
মিড-ডে-মিলের বদলে সে
শিখে আসে অথবা আউড়িয়ে আসে
ভুলভাল পঠনপাঠন।
রোজকার রুজি রুটির জোগাড়ে
ছুটে চলা মা বাবার শূন্য গৃহস্থালি
মেয়েটা সামলে নেয় পরম আদরে।

এক রাতে তার চোখে স্বপ্ন বাসা বাঁধে।
স্বপ্নের তাড়নায় বোকাসোকা মুখ্যু মেয়েটা
একদিন পাচার হয়ে যায়
প্রতিদিনের মাংসবাজারে
অথবা কোনো গরাদখানায়
তারপর আর কি!
ওই যা হয়, হয়ে থাকে -
প্রতিদিন নীল হতে হতে মরে যাওয়া
অথবা
হঠাৎ একদিন রক্তবর্ণ সিঁদুর ও আলতায়
মাখামাখি হয়ে,
গলায় গাঢ় নীল-আদরের সুখটুকু নিয়ে
শ্মশানের দিকে ধাওয়া।

আজও আমাদের অজ গ্রামে গ্রামে
মুখ্যু মেয়েরা পরিপাটি এক সংসারের স্বপ্ন দেখে
আজও আমাদের অজ গ্রামে গ্রামে
বংশের বাতি-বওয়া সরল বালকেরা
মিড-ডে-মিলের বদলে আউড়িয়ে আসে
ভুলভাল পঠনপাঠন।

রুকসানা কাজল

আমিও বুদ্ধ হব

আমিও বুদ্ধ হব
এই সংসার সন্তান স্বচ্ছলতার মখমলি কিনার ধরে
নিত্য ঘন চাওয়া,উদগ্র বাসনার নির্লজ্জ আশ্লেষ ছুঁড়ে
বেছে নেব অশ্বত্থতল,
রুমালি রুটি,ঘি ভাত,গোছা গোছা ছায়া প্রেম,
আমার নির্বাণ হোক,

কামধেনু মেঘদল যেখানে আকাশ মাটিতে
নৈবেদ্যের শুদ্ধতায় জ্বেলেছে অহিংস আগুন
সুজাতা বসে আছে নিরঞ্জনার জল ছুঁয়ে ----

পল্লব সেনগুপ্ত

এই কি সেই কবুতর

স্নিগ্ধ করতলে মাটির ঢেলার মতো চুপ হয়ে থাকে কবুতর,
 বসন নিচ্ছে সে খুঁটে,
করতলকেই মনে হয় তার খোঁপ,
উদ্ধত চোখ তুলে সে তাকায় এদিক ওদিক,
যতটা সম্ভব তাকেই আকাশ করে উড়াউড়ি তার,
এত কোমলতা তার শরীর জুড়ে হাতকেই গলিয়ে দিয়েছে প্রায়,
মোহময় মৌমাছি যেন উড়ে এসে বসেছে আঙুল ডগায়,
এতো কি মধু লুকানো এই চাকে?
এত মোম ভরা ভরাট শরীর,এত সোমলতা পুষ্পগন্ধপ্রায়
এত আলো চোখ ধাঁধানো,
স্নিগ্ধতা জুড়ানো চাঁদ,
সন্তর্পনে উড়ে এসে বসে জিভের ডগায়,
উগড়ে দিয়ে আদর ঠোঁটে দাঁতে,একসাথে তোলে ঝড়,
এই কি সেই কবুতর, খাঁচায় যে বন্দি থাকে অষ্টপ্রহর মমতায়!

সুনীতি দেবনাথ

অব্যাখ্যাত যন্ত্রণা

জীবন মানে প্রতি পলে মৃত্যুর সমষ্টি
কান্নার পথ বেয়ে শেষে অন্ত স্টেশন পৌঁছা

তবু এরই মাঝে আলো ঝর্ণা হয়ে ওঠে ...
অজানা বন্দরে বাতিঘরে
কখনো সমুদ্রে নাবিক দেখে দিগ্ নির্দেশনা আলো ...
উদ্ভ্রান্ত সময়ের অন্তে সমুদ্রসৈকতে
আরেক জন্মের নির্মাণ হয়
শাশ্বত  আলোর মশাল স্বপ্ন দেখায়
স্মৃতি হয়ে ওঠে কণা কণা বিষাদ

শেষ রাতে ভয়ঙ্কর স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গেলে
অব্যাখ্যাত যম্ত্রণায় বিদ্ধ হতে হয় শুধু