৭ম বর্ষ ৪৬তম সংখ্যা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এই সংখ্যায় ২৯টি কবিতা । লেখকসূচি : মিতালি মুখোপাধ্যায়, পৃথা রায়চৌধুরী, চয়ন ভৌমিক, অনিমেষ সিংহ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, নাসির ওয়াদেন, অরুণ সেনগুপ্ত, কামরুন নাহার কুহেলি, জ্যোতর্ময় মুখার্জি, মিজান ভুইয়া, জ্যোৎস্না রহমান, তন্ময় চট্টোপাধ্যায়, গৌতমকুমার গুপ্ত, স্বর্ভানু সান্যাল, শুভাশিস দাস, স্বপ্ননীল রুদ্র, অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী, গীতশ্রী চক্রবর্তী মল্লিক, দেবাশিস কোনার, শ্রী সেনগুপ্ত, তমা বর্মন, জয়তী দাস, সৌরভ বর্ধন, সুদীপকুমার দাস ও শুক্লা মালাকার ।

      সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করেও পড়তে পারেন

মিতালী মুখোপাধ্যায়

নদীমাতৃক

গুছিয়ে রেখেছি যত ভুল
 তার থেকে প্রতিদিন একটি করে ফেলে দিতে চাই    
কোনটা ভেসে যায়!
আবার কোনটা আটকে থাকে দিনজানলার গরাদের গায়!

ভর্তি বাসের সব কটা সিটের দিকে তাকানো নিঃশ্বাসের মত!
অসহায় এই সময়গুলো
বড় বেশি জমাট!
আমাকে ছাড়তে চায় না - ওরা!
আমারই যত প্রিয় ভুল!

যত্ন আর আতিথ্যে
ছত্রাকও বেড়ে ওঠে!
আসল নকলের চেনা ইস্তেহার ছাড়াই!

 দুহাতে পলিমাটি মাখি

 নদীর নাম জানব বলে!

পৃথা রায় চৌধুরী

অনেকটা ঈশ্বরের মতো

ভেতরে ভেতরে বন্যা ছড়িয়ে পড়ছে।
বন্যা ঘোমটায় ঢাকা।
বন্যা, তার নিরুপায় তরল গঠন,
নির্ভেজাল কলঙ্কিত ভয়াল সৌন্দর্যে মত্ত।
তুমি তাকে বাঁধতে পারছো না আর।
বাঁধ দিয়েছিলে যতো, উন্মত্ততায় সব বাঁধনকুচি ভেসে যাচ্ছে
এ ওর গায়ে মাখামাখি হতে হতে।
তোমার কটা সিঁড়ি ডুবলো? জানো না, তুমি বানভাসি ঈশ্বর!

ডুবে যাচ্ছে পদক্ষেপ;
বন্যা এসেছে জানাতে, তুমি আমার সম্মানের মতো।
তুমি আমার কেউ হও না বুঝতে বুঝতে পেরিয়ে এসেছি প্রিয় দরদালান;
সেই যেখানে নিষ্পাপ স্বপ্নদেরও ঠোঁট থাকে,
আর সেখানে তুমি আমার গান হয়ে বেঁচে থাকো।
ক্রমাগত সুরের ওঠাপড়ায়
বুঝি বিরক্ত হয়ে তুমি আমার আর্তনাদ হয়ে গেলে!

এই শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্মস্থানে বসে আছো বিস্ময়ে।
তুমি নিয়ন্ত্রণ করবে কাকে?
এসো আমার হাতের কাঠপুতলি, সুতোয় আঙ্গুলে জড়ামড়ি,
তোমাকে আমার কথা বানাই...
আমার হাভাতেপনার সাক্ষী হবে এসো।
তোমার হাজার-কোটি-... আরো অনেক লোকদেখানো ক্রিয়াকে
পবিত্র শ্মশানে প্রবেশাধিকার দিয়েছি।

একদৃষ্টির অদৃষ্টে
তোমার সন্ধানে ক্লান্ত ঘুমে বুঝেছি,
তুমি আমার আয়নায় ফাটল হয়ে বসেছো।

চয়ন ভৌমিক

আকাশ দেখা রাতে

অনেক দিন পর চাঁদ দেখলাম আজ।
তার পাশে ছোট্ট বেড়াল ছানার মতো
একটা গা ঘেঁষা তারা।

আসলে অন্ধত্ব জুড়ে আছে বহুদিন ধরে,
ঘাসহীন একটা মাঠের,নির্মম ধুলো শুধু
উড়ে আসে চোখে।

চোখ করকর করলে,
ভালো করে তাকানো যায় না জানোই তো-
দেখা যায় না নরম আলো,
কাশবন, সাদা মেঘের নীচে
উড়তে থাকা নীলকন্ঠ পাখি,
পদ্মবনে ঘুরে বেড়ানো জলঢোঁড়া সাপ।

হিসাব মতো আজ জ্বর আসবে আমার,
সেরকমই কথা ছিল,
একটা আলতো হাতের জলন্যাকড়া
কপালে বুলিয়ে দেবে উপশমের বাতাস -

আমি খোলা জানলার মতো
আলোর উৎসব হবো উদাসী দৃষ্টিতে
সহস্র বিষণ্ণতার মাঝেও
নীল রঙের একটা কবিতায়
মেরুণ ফড়িং হয়ে,ছন্দ আঁকার চেষ্টা করে যাবো,
সারাটা জীবন ধরে।।

অনিমেষ সিংহ

ভালোবাসার আগে আগে

ভালোবাসো, যতোটা সময় পাও শুক্কুরবারে,
নখ কাটার পরে,
একটিবার ভালোবেসে যেয়ো।

ভালোবাসার মতো মানবিক পন্থা নেই এখানে।

ঘন দুর্দিনে দৈব লুকায় পাথরে অথবা কোনো সুরম্য বিছানায়!
কেবল ভালোবাসা আসতে পারে নির্দ্বিধায়;
তুমি মার্জিত, শিক্ষিত এবং রুচিশীল,
ভালোবাসার সাথে এই লক্ষণগুলি তোমাকে দরদী করেছে।
শনিবারের বিকেলে এসো,
ভালোবেসে যেয়ো।

আমার কোনো গুণ নেই, বিভাজিত মাটি নিয়ে
সত্যকে উপলব্দী করি নটে গাছটির মতো।

জানি, রবিবার তুমি ঘুমতো যাও তাড়াতাড়ি

ঘুম ভাঙার পরে ভালোবাসা যদি তোমার গা ঘেসে শুয়ে থাকে,
ভালোবেসে যেয়ো,
যত অল্পই হোক সময়।


দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

গ্রাম ইন

এক ধামা মুড়ি ঝরছে শালপাতায়
পাতায় কুলোচ্ছে না ডাল আর ডিঙলার তরকারি
রিমঝিম ঘুঙুর বাজে ছাগলের গলায়
 লায়লা মজনুর গল্প শেষ আর মাহিন্দরের পাত তোলা মানে
একটু ঝুঁকে কোঁচড়ে শিউলি লিখে শেষ হয় না এমনি নীল আকাশ
কাশের গুচ্ছ নিয়ে দাঁড়িয়ে বন্ধ কারখানার জমিতে
তেমনি ক্ষেতের উপর অসংখ্য শাপলা শালুক

লুক আউট নোটিশ জারি না হওয়ায় বাঁশ
শয়ন করছেন ঘাসের জমির গায়ে  আর কাঠামোয় মাটি
টিকলো নাকের পাশে বসছে বড়ো বড়ো চোখ আর পানপাতা মুখ

খবর তেলের দাম বেড়ে জিনিস পত্র নাগালের ভেতর নেই
নেই নেই এর ভেতর তিনি আসছেন প্রতিবারের মতো
তো সবই হচ্ছে আর ঢাকের বায়নাও
নাও তবে ভাসাও নদী বলছে জোর

নাসির ওয়াদেন

বিষন্নতা বিন্দু বিন্দু মুক্তো


বিষন্নতা আমাকে মুক্তি দিতে চায়
 
দগ্ধী-ভূত কষ্টের লোনা জলাশয়ে
 
সাঁতার কাটে সহিষ্ণুতার ফুল
 

বিষন্নতা আগুন নিয়ে খেলা করে
 
পুড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের বাসগৃহ
 
অভিমানে ত্যাজ্য করেছি তাকে
 

লুটে নিচ্ছে আমার জ্ঞান বৃক্ষের ডাল
 
আড়িপাতে আশেপাশে জলদস্যু
 
স্বর্গ থেকে কিনে এনে বসিয়েছে বাঘ
 
আমার সদর দফতরে
 

একখানি মোক্ষম রাত পেলেই
 
সহবাসে ভরে দেবে পৃথিবী
 
সোনার পাথর বাটি ---

মুঠো মুঠো ছড়ানো বিষন্নতা
 
বিন্দু বিন্দু মুক্তোর স্নেহকণা ঝরাচ্ছে ।



কামরুন নাহার কুহেলি

ভালোবাসার বাইবেল

তাকে ভালোবেসে ফেলি-
তার কথা ভালোবাসার বাইবেলের মতো মনে হয়!
ভিড়-ভাট্টার দিন শেষে জোনাক পোকার মতো 
ভালোবাসার আলোটা জ্বলে-নিভে। তার নির্বিকার
ভাব প্রকাশ জমাট অন্ধকারে কুয়াশা বাড়ায় মনে,
সামুদ্রিক ফেনিলের মতো ভাসি লোনাজলে! আঁধারের
গভীরতা বাড়লে সে  আসে জোনাকপোকা হাতে, পাঠ করে
ভালোবাসার বাইবেল! আঁধারের বুক ফুঁড়ে চাঁদ জাগে ;
আমি তাকে কতখানি চাই এই ভেবে জ্যোৎস্না মাখি-
সহস্র উল্লাসে দাঁঁড়িয়ে থাকি রোদের আশায়! এলো চুলে
ঝাপসা চোখ মেলে দেখি- তিনজন অস্পষ্ট মানুষের দিকে
হেঁটে যাচ্ছে সে ......



অরুণ সেনগুপ্ত

সিঁড়ি 

মানে তো আছে নিশ্চয়ই
তো এতো ছন্দময় সিঁড়ি ভেঙে ওঠা কেন?
ছাদ দ্যাখে কাব্যময় আকাশের চাঁদ, 
ভাবে কুমড়ো ফালি তিনশো মাত্রারূপে এক চাঁদ  কাব্য নিয়ে বসে আছে 
অবশ্য আজকাল চাঁদ নিয়ে কাব্যি করে না ভেবে 
তারাগুলি গুণে অক্ষরের মতো বৃথা 
কাজ নেই খই ভেবে নেমে আসে অলংকারের সিঁড়ি
হাওয়ায় উড়ে যায় ওই দ্যাখো চতুর্দশ পদাবলী 



সাদা পাতা 

সাদা পাতা  শীতের কুয়াশা সকাল
রোদস্নানে একে একে ধুয়ে ওঠে সব
কুহেলী  চোখ ছুঁয়েছে কাঁটাতার  জাল
ফুটে উঠছে গদ্য পদ্য তুলির অবয়ব


বয়স

যুবক বয়স অবলীলায় পেরোয়
চৌরাস্তার মোড় ; স্বাভাবিক দুঃসাহস
তিনচারদিক দেখে, খুব সাবধানী
রাস্তা পার হয় পিতা, বৃদ্ধ বয়স