বর্ষ আট, সংখ্যা ছয় ৩০ নভেম্বর ২০১৮ অগ্রহায়ন ১৪, ১৪২৫ শুক্রবার

এই সংখ্যায় যাদের লেখা : রত্নদীপা দে ঘোষ, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, অরুণিমা চৌধুরী, অনুপম দাশশর্মা, সমরেন্দ্র বিশ্বাস, সুবীর সরকার, অর্ঘ্য রায়চৌধুরী, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, চিরশ্রী, দেবনাথ, নাসির ওয়াদেন, জয়দীপ চক্রবর্তী, জ্যোতির্ময় মুখার্জি, কৃষ্ণা মালিক, সুতপা সরকার, ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী, উজান উপাধ্যায়, শুভাশিস দাস, উদয় চক্রবর্তী, পারমিতা চক্রবর্তী, স্বপ্ননীল রুদ্র, দেবাশিস কোনার, রুমকি আনোয়ার, সুকল্যাণ তপস্বী, চিরদীপ সরকার, অঞ্জন সরকার ও অলভ্য ঘোষ ।

         সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন

রত্নদীপা দে ঘোষ

বাবা চলে গেলেন পাশের ঘরে

সম্ভবত ঘরটা বাবার পছন্দের ছায়াপথরঙ
আকাশটা আরও অনেকটা বড় ধ্রুবতারা
হয়তো বৃষ্টিগুলি স্বাস্থ্যবান খুব মজবুত
গাছেরা আরও সটান আরও দীর্ঘদেহী


হয়তো সেই ঘরের পাখিরা আরও ঘন
অরণ্য আরও গভীর, উদার পলাশিত


হয়তো সেই ঘরে বাবার জন্যেই রাখা
নিজস্ব রূপোর ধ্রুবতারা,  সোনার ধুলো
পান্না- গড়নের রিমঝিম আঁকা


রজনীগন্ধার এক্কায় দুলতে দুলতে
তাই বাবা চলে গেলেন পাশের বাতাসে ...


বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

জেগে আছে  আলোর ভ্রূকুটি
    
অন্ধকার আমাকে বিব্রত করে না বরং আলো এসে
শাসিয়ে যায় সকাল সন্ধ্যা     

চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় উঁচু নীচু
সুন্দর কুৎসিত  
কালো আর ফর্সার তফাত। 


রঙ রেখার ভেতর 
মানচিত্রের দাগ। 
ছোট ছোট হিসেব নিকেশ

সমস্ত সীমান্ত মুছে 
অন্ধকার আসে
মগ্নতার কালো আকাশ।  

বাস্তব পেরিয়ে সত্যের বেলাভূমি

কেউ আলোর দিকে লেলিয়ে দিচ্ছে একমুঠো আঁধার।

অরুণিমা চৌধুরী

পাপিয়সী

সব ক্ষত তীর্থস্থান
কোনখানে নেমেছ অতল!

এইটুকু দু:খ দেবে তাই মরীয়া হয়েছ! 
এই নাও স্থান কাল
 এই পাত্র বাড়িয়ে দিলাম
কার্য কারণটুকু স্থির করে নিও, 

কী বলে ভেজাতে চাও! 
কোনখানে চুমু আঁকা হলে আমি ঘোর পাপিষ্ঠা রমণী 

আঁকো তবে!
 কোন সাঁকো বাকি নেই 

এই নগ্ন ক্ষত খানি সম্বল...




অনুপম দাশশর্মা

জয় ?

কা'কে জয় বলে, কা'কে?
কে তোমার প্রিয়জন?
ধূ-ধূ রোদ্দুরে দ্যাখো..কেমন
মায়াচ্ছন্ন জীবন ধুঁকছে
নাক উঁচিয়ে
গায়ে মাখিয়ে নিচ্ছে
বিষাদ-গুঁড়োর ছাই।

ভাবছো তুমি নাগপাশে জড়িয়েছো যাঁকে
সে যেন পোড়া মৃণ্ময়, পুতুলসম..
বহমান জনরব কুপিয়েছে তাঁকে?
বাতাসের বুকে থাকে অযুত বারুদ
মিথ্যের পলকা রশি দূর্বল হয়ে পড়ে
সময়ের প্রবাহে একসময়ে।

তুমি দূর থেকে বিছিয়েছো নজরের ফাঁদ
শুধু ্যাখোনি কখন যে ঘটে গেছে
ঝুটা কাহানির সমস্ত বরবাদ।

একে তুমি জয় বলে ধরেছিলে?
মিউ বলে পিঠে আছড়ে পড়েছিল বুঝি
সে-  ...!!!


সমরেন্দ্র বিশ্বাস

আত্মজাকে,অনাগত অন্ধকারে দাঁড়িয়ে

নদীর এপারে রাখা আমাদের সকাল সন্ধ্যা
সময়ের উজানে জলস্রোত,তুই যাবি ওপারে
রাত এখন অন্ধকার
নদীর এপাশে কাশ ফুলের মতো মাথা দোলানো স্নেহ
আত্মীয় বৃক্ষের লতা পাতায় ভালোবাসা,
বেঁধে-রাখা অনুশাসনের হাওয়া
মাথার উপর মেঘে মেঘে স্বপ্ন
এসব কিছুই তোর স্কুলব্যাগে ছেড়ে এলি
শুধু আজ সময়টাই বেখাপ্পাঅন্ধকার রাত
নিজেকেই নিজে ছিঁড়ে ফেলছে রাগে!
তবুও নদীর ওপারে দূরে দেখা যাচ্ছে নক্ষত্রের আলোর সারি,
পথ ভোলা নৌকার লন্ঠনেরা আলো জ্বালিয়ে
এগিয়ে যাচ্ছে দূরে,অনেক দূরে
নদীর মাঝে জেগে উঠেছে অজানা চর,
সময়ের বুকে সাঁতারের ক্ষতচিহ্ন
ঘড়ি উড়ে চলেছে উজানের দিকে,
হাওয়ার কানে কানে মা-পিসিদের গল্পকথা
নদীর ওপার তোকে ডাকছে? ডাকবেই তো !
আমার মেয়ে,অনাগত অন্ধকারে দাঁড়িয়ে শুধু এটুকুই বলা
রাত্রের ফিসফাসে চোরাগোপ্তা লুকিয়ে আছে চক্রান্ত
সঙ্গে নিয়ে যাস বাঘছাল পোষাক,
স্রোতের মেধাবী টান, লাইটহাউসের আলো
যেতে তো হবেই। তুই তো জানিস,
আমাদের কারো হাতেই অনেক বেশী সময় নেই !

সুবীর সরকার

গুজবনামা

মহার্ঘ্য সব রাত পেরিয়ে যায়।
গুজব ছাড়াই কাটছে ব্যক্তিগত
                  জীবন
একটি পাখি কি উড়ে যেতে চায়
                  আকাশে!
নতুন সুজাতা আসে।পায়েসের রেকাব
নিয়ে হেঁটে যায়।
নতুবা বুদ্ধের মুখ,বৃদ্ধের
             মুখ।
মাদল আর বাঁশির আবহ
রোদ ও ছায়ামাখা সংলাপ
স্মৃতিতাড়িত হই,একচোট
              হাসি
কেমন ষড়যন্ত্রের গন্ধ
কাক ও কাঁকড়া
বর্ণাঢ্যতা লুকিয়ে পড়ে
             কোথাও
নদীপাহাড়ের এই দেশ
পছন্দের বোরোলি মাছ
তরাই জঙ্গলের চকিত
            হরিণ
কৃষিজমি ও লাঙ্গলের ফলা
অবসর কাটাতে কাঠের
             বাড়ি
চুনহলুদ থেকে কতদূরে
             তুমি?
পুতুলের মত উঠে দাঁড়াচ্ছে
              সবাই
অভিজ্ঞতা থেকেই তো কথা
              বলি
জনজীবনের ছবি।
ফিরে আসছে মৌসুমী বায়ু
নদী পেরোচ্ছি।
ছুটছি টুপি ও
      ঘোড়াসমেত
রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো
           কুকুর
জল ও ওষুধ পাঠাও
গোলাবর্ষণের মধ্যে দিয়ে
             যাচ্ছি
আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে
           হ্যাঁচকা টান
একেকটা মিছিল যায় আর ব্যাঙ্গের
                 হাসি
আর পোড়ো বাড়ি।
আর ওয়াচ টাওয়ারের
           রাস্তা
ব্যতিক্রম বাদ দিন
মাঠের মত মাঠ পড়ে থাকুক
মাঠে মাঠে নাচের
          দৃশ্য
গল্প থেকে বেরিয়ে যাই
পেরোতে থাকি মহার্ঘ্য সব
              রাত