সৌমিত্র চক্রবর্তী

রক্ত এবং দিনপ্রতিদিন

নদীর শুকনো চর বিদ্ধ করে
ছলাত্ ...
একদলা রক্তকণা ছিটিয়ে লাল
রাজপথ।

রক্ত দেখলেই একদল উৎসুক
খুঁটে খুঁটে হিমোগ্লোবিন
ভাঁড়ারের সাম্বৎসরিক জোগাড়,
রক্ত দেখলেই কারো খিদে পেয়ে যায়।

আরও একদল ভুরভুর সুগন্ধি রুমাল
নাকে চেপে দ্রুত সরে আসে,
রক্ত দেখলেই তাদের ওয়াক...

অথচ সময় অসময়ে টিভির চৌকো
বাক্স তাদের ডাকে - তইতই...তইতই...
সব্জিবাথানে সামান্য অন্যমনস্কতার
একফোঁটা রক্তে হৈচৈ ব্যান্ডএড
রাঙাজবা থেকে কেয়া শেঠ
রক্তরং সিঁদুরের জন্য হাপিত্যেশ
ব্রাহ্মমূহুর্তে সূর্যের রক্তরঞ্জিত আকাশে
ওহম জবাকুসুমসংকাশ ...
অথচ অন্য গ্রুপের রক্তে
হে ঈশ্বর, বড়ই অ্যালার্জি!

এরচেয়ে শপিংমলের ঝংকৃত জলুস
এপাড় ওপাড়ের কট্টর দলের গোপন
আঁতাতে কফি মগে তুলকালাম হারিকেন
আর রাতদিন দিনরাত
প্রেম প্রেম খেলা
ক্রিকেটের তুমুল জ্বর
আর যত টিকি দাড়ির ফতোয়ায়
উপোসের রক্ষণাবেক্ষণ,
আহহা! য়হি তো হ্যায় জিন্দেগী ইয়ার!

এখন অনেক বেশী জরুরী
গরু খাওয়া বিষয়ক বৃত্তান্ত
পরকীয়া রমন কিম্বা
দুহাজার স্কোয়ার ফিটের ঝাঁ চকচকে
ফ্ল্যাট আর আনুষঙ্গিক টন টন ফার্নিচার,
এখন অনেক বেশী জরুরী
জরুরী অবস্থা, নেতাজীর বেঁচে থাকা,
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু রাজা,
দুর্গাপুজো, ঈদ, দেওয়ালির
ফুটফুটে ব্র্যান্ডেড পোষাক।

রাজপথের অচ্ছুত রক্ত ক্রমশঃ
শুকিয়ে কালো হয়
আঁসটে গন্ধ ছাড়ে
দূষণ মুক্তির জন্য
প্রয়োজন হয় আরো এক ঝলক রক্তের।

পিঠে হাত দিয়েও আজকাল
মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া যায় না,
এসময় রক্তের জন্য চাপ নেয় কোন শালা...!


1 টি মন্তব্য: