সুনীতি দেবনাথ

কবিতার লাশ ও আমি

হসপিটালের করিডোরে ক্লান্ত হয়ে
একসময় লাশ হয়ে শুয়ে পড়েছি,
আমার চারপাশে আমার কবিতার লাশ
সারি সারি বাক্যহারা নিস্তব্ধতায় শুয়ে।
বোবা এক অন্ধকার কাফনের মত
আমাকে আমার কবিতাকে শেষবার
অশ্রুর আবরণে ঢেকে দিল চুপিচুপি।

বিষাদনীলিমা আমাকে ছেয়েছে
গাঢ়তম আস্তরে আস্তরে জটিল করে,
এই দেহ ক্ষয়ে যায় চূর্ণ চূর্ণ হয়ে যায়
কালের প্রবাহে যত স্বপ্ন রচেছিল মন
রচেছিলো যতসব কবিতার চরণ
আজ সব ধ্বংস হয়ে যাবে অবশ্যই ,
সৃষ্টির চরম পরম শিখর অধরা থেকে গেলো।

আলোহীন ম্লান অন্ধকারে কবিতার লাশ
শকুনেরা, ধূর্ত শেয়ালেরা ওৎ পেতে ছিলো,
সুতীক্ষ্ণ দন্ত নখরে দেহের সাথে কবিতার দেহ
কৌশলী আঁচড়ে ফালা ফালা করে ছিঁড়ে ফেলে,
কবিতার প্রতিটি বর্ণ অক্ষর শব্দ গ্রাস করে
মৃত নীল রক্ত দাঁত মুখে মেখে উল্লাসে হাসে,
ছায়াপথে ধীরে ধীরে স্বপ্নেরা ক্রমে বিলীন হয়।

বিদ্রোহ বিপ্লব নতুন সৃষ্টির স্বপ্ন চেতনার আগুন
সব কিছু ধীরে ধীরে ক্ষয় পেয়ে লীন হয়ে যায়।
এই দেহ জীর্ণ বসনের সাথে কবিতার পংক্তিমালা
সবকিছু ছেড়ে যেতে হবে একেবারে যেতে হবে
হসপিটালের করিডোরে শুয়ে পড়ি আমি
আমার কবিতাগুলো ব্যর্থতার ছাপ নিয়ে শুয়ে থাকে,
কবিতা আর আমি পাশাপাশি লাশ হয়ে পড়ে থাকি।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন