৮ম বর্ষ সংখ্যা ১৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এই সংখ্যায় ২৭ টি কবিতা । লেখকসূচি : রত্নদীপা দে ঘোষ, গৌতম দত্ত, পিনাকী দত্তগুপ্ত, জপমালা ঘোষ রায়, অরুণিমা চৌধুরী, রুখসানা কাজল, অজন্তা রায় আচার্য, সঞ্চিতা চক্রবর্তী, মন্দিরা ঘোষ, রাজশ্রী ব্যানার্জী, সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী, শ্রীলেখা মুখার্জী, কাজরী তিথি জামান, সুনীতি দেবনাথ, শুভাশিস দাশ, সুদীপ ঘোষাল, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, স্বরূপ মুখার্জী, জারিফ এ আলম, চিরন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রী সেনগুপ্ত, মতিউল ইসলাম, দেবাশিস কোনার, ইন্দ্রাণী সরকার ও তুষার দাস ।
            সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন

রত্নদীপা দে ঘোষ

ভাষা

 

ব্রহ্মাণ্ড যেন আচমকা পেন্সিল,দমকা সেলেট। ঢলভাঙা বকসারির ইস্কুল। 
ইতিউতি লেখাশিখির পেখম। ধানের অক্ষরেখা জুড়ে ফোয়ারার খাগ।
কলমের তানে আমিও শিখছি অক্ষর,অনর্গল ঠিকানা।

 

ফুলে-ফসলে সেজে এলেন সু -সমাচার। খঞ্জনার পালকে মিঠেরোদ,
মানেই ছন্দের আকর। অগাধ গদ্যে এইমাত্র আঁখি বেষ্টিত হলেন
শ্রীমতী বাক্যদেবী। তাঁকে বলি, অসুখ-সমগ্র থেকে সারিয়ে তোলো হে,আমাদের।

 
সেরে ওঠো যতো তুচ্ছ টলোমলো। খোলামের মূকূল,কুচি। 
উন্মুক্ত হোক আকাশজমি,অন্তরে অন্তর গেঁথে তৈরি হোক মহান চর্যাপদ।বাণপ্রস্থ শেষে ভাষার প্রাচীর ঘেঁষে, বাজুক শান্তির বিউগল,সাথে একপ্রস্থ কবিতালেখা নদী।

 

অপেক্ষা করে আছি এমন একটি আবহাওয়ার যেখানে মাতৃভাষা ছাড়া
আর কোনো দ্বিতীয় জলবায়ু নেই। অপেক্ষা করে আছি এমন এক মাতৃভাষার
যার শুরু এবং শেষে মা-রক্তের গোলাপ ছাড়া আর কোনো মহাজ্যোতি নেই।

 

আয়নার জাফরিতে জেগেওঠা মানুষের বাসা। আপাতত সেই ভাষায় একটু জিরিয়ে নিই।তারপর না হয় কান্নার গমকে হাসতে হাসতে দর্পণের ঘনঘটায় যাবো ভেসে ...


পিনাকী দত্ত গুপ্ত

ভালো থেকো 'সবুজ পাইন ফল'

ভালো থেকো,সবুজ পাইন ফল..
কুয়াশা, মেঘ,শীত পোহানো রাত!
অরণ্য-পথ,গোপন চলাচল,
পাহাড়ি রোদ - ছায়ার অনুপাত...

ভালো থেকো,হারিয়ে যাওয়া দিন,
বাড়িয়ে দেওয়া বন্ধু তোমার হাত...
দস্যি ছেলে হঠাৎ উদাসীন...
বুড়ো বট আর তেপান্তরের রাত!

সবুজ পাইন ফল'টা আজও আছে
ধুলোয় ঢাকা ভাঙা কাচের তাক’এ
টিনের দেরা,চীনের পুতুল নাচে
বন্ধ ঘরে,কেউ কি ফিরে দেখে?

ভালো থেকো সবুজ পাইন ফল...
সারেঙ্গিতে স্মৃতির যাওয়া আসা...
একলা লিখে চলি অনর্গল...
পেরিয়ে আসা আমার ভালোবাসা |

গৌতম দত্ত

আমার ভাষা প্রাণের ভাষা -

প্রথম যেদিন ডাকলি রে তুই
বাবা বলে
সেদিন আবার আমার ভাষা
উঠল জ্বলে
শুনতে পেলাম আবার আমার
মায়ের ভাষা
ছোট্ট দু-ঠোঁট আনন্দেতে
আনলো আশা।
বাংলা ভাষা।

বিদ্যাসাগর তোকেই দিলেন
বর্ণ মালা
ছন্দ ছবির সহজ পাঠ আর
ঝালাপালা।
আবোল তাবোল তোকেই চেনায়
কুমড়োপটাশ
কুম্ভকর্ণ ছমাস জেগেই
আবার ধপাস।
এমন করেই শিখলি সবই
বাংলা ভাষায়
তাইতো আমার চোখের কোনে
জল এসে যায়।

আজকে যখন সকাল থেকেই
রাস্তা ঘাটে
বাংলা ভাষায় শ্লোগান ওঠে
অনেক মাঠে
তখন আমার বুক ভরে যায়
চাপা আশায়
বিশ্বসভায় চলছে ভাষণ
বাংলা ভাষায়
আ মরি বাংলা ভাষায়
অবজ্ঞা আর উপেক্ষাতে
যতই ঠেলো
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা
জাগাক আলো
জাগাক আলো সব ভাষাকেই
সঙ্গে নিয়ে
থাকবে জারি লড়াই সবার
মাতৃভাষায় শপথ নিয়ে।
আজকে এ দিন আসুক ফিরে "ভাষার দিনে"
এমনি করেই নিজের মা'কে নেবই চিনে
নেবই চিনে আমার যত ভালবাসা
আসুক ফিরে আসুক ফিরে
সবার যত মায়ের ভাষা।
আসুক ফিরে বাংলাদেশে
আমাদের এই বাংলাভাষা।
বাংলাভাষা।।


অরুণিমা চৌধুরী

অপরাহ্ণ

কুড়িয়ে নাও নাভীখন্ড
যা ছিল নিভৃতে
শরীরে প্রোথি
এইবেলা পুড়ে যাক সমস্ত বকুল

চাঁদের উল্টোদিকে কারা যেন  জ্বেলেছে জোনাকি
মন্দ কি যদি ফিরে যাই! কী চাও  ফেরালে মুখ!
আমি পথভ্রষ্ট  শেষ বিকেলের স্তব্ধ শ্বাস,হাঁমুখ
গলে গলে গেছে বয়স্ক ভ্রুভঙ্গ 
ঘরের  নষ্টপথে রক্তচূর্ণ নেই  আবাহন নেই বিসর্জনও নেই
শেষ বিকেলের আলো ম্রিয়মাণ 
সব পাপ,এখন যা কিছু ছোঁব সব

ক্লান্ত বীতশ্রদ্ধ আমি  তুমুল বিদ্রোহ নিয়ে
বসে আছি, যেন তুমি বললেই 
অন্ধকার মুছে যাবে!
খুলে যাবে বিশ্বাসের অন্তিম পরত 

যেখানে প্রথম আলো সেখানেই জন্মমুখ
ভীষণ পিছল মেখে আগুনে ধরেছি হাত
বলো এতে কার গাত্রদাহ 
ফুরিয়ে যাবার আগে তুলে নিও নাভীকূপ
শুধু ওইখানে আত্মার দেহচিহ্ন লুকিয়ে রেখেছি।


জপমালা ঘোষরায়

জেটিতে দাঁড়িয়ে

- প্রথম কথা

আমি এমন বুরবাকের মতো দাবী কখনোই করিনি যে,কোনো রূপকথা ফিলমের নির্মাতা হবে তুমি। প্রাপ্তি বলতে শুধু ঘাসবীজের মতো ঈষৎ বেগুনি কিছু দানা থাকলেই হত,সেখানেই হারিয়ে যেত একটা সেফটিপিন, এবং সেটা খুঁজতে খুঁজতেই কিছুটা নির্মাণকথা,যেটা অন্তত পুঁথিপত্র থানইঁটের কবিসভা হত না। আজকাল সভাটভা শুনলে গা বমি দেয়। একথা তো বহুবার বলেছি। এই কুঁতিয়ে কুঁতিয়ে বজায় রাখা থেকে আমি বিনির্মুক্ত হতে চাই। 

 তোমার সন্তান আমার সন্তানের প্রেক্ষিত সম্পূর্ণ আলাদা তবুও তো মাইলস্টোন ছুঁয়ে থাকার কথা হত কিছু। সেটা নাহয় কংক্রিট দেয়াল, গ্যারেজ বা লিফট রুম থেকে দূরেই হত কিছুটা। তুমি একবার এখানে থামলেই দেখতে পেতে কেবলমাত্র মাইলস্টোনের পাশেই আমাদের পিতাদের ছায়া ক্রমশ প্রলম্ব হতে হতে... একীভূত হতে হতে....  সন্ধ্যাগামী হয়ে সর্বজনীন পিতৃত্বের দিকে যাচ্ছে.... তুমি নাহয় এইটুকুই শুধু পিতা হতে! 

 তুমি যা যা পারতে এবং তুমি যা যা পারলে না,নক্ষত্রের কুকুরের গায়ে অক্ষম পিচুটির মত থেকে গেল। আমি মুছে দিলাম না, স্মরণ শরণ সরণ প্রতিসরণ সমস্ত তমো এবং বিজ্ঞান আমার বোধ ও বোধির ভিতর ঘুলিয়ে একাকার হয়ে গেল। যাদের আপন ভেবে লালন করেছিলাম তারা অসহায় হয়ে আমারই মৃত্যু কামনা করছে এখন, শুধু তাদেরকেই ক্ষমা করতে পারল আমার মেঝেজুড়ে ইতস্তত পড়ে থাকা ওষুধের রাংতা আর জীবনের দায়, আর কাউকেই না।  


-দ্বিতীয়  কথা

 মুকুলিকারা গাছালিপনায় ঢলে পড়ছে হু হু বাতাসের গায়ে,এখানে ওখানে খাঁজে ও খোঁজে,এই ঢলে পড়াকে আর ঢলামি মনে করে প্রফুল্লতা জাগে না। তবে খাঁজে থাকলেও খোঁজে থাকা যায় এটা এখনো বিশ্বাস করি। 

নদীর ধারে আসার বিষয়টাকে এত ডিটেলিং করছি কেন আমি নিজেই জানি না। বাবলা কাঁটার অনতিদূরে যেখানে কোনো ছায়াই প্রায় ছিল না, সেখানেও ছায়ামূর্তি এসে সভয়ে দাঁড়াচ্ছে... আমি কি তাহলে নদীকেও ভয় পাচ্ছি!  ফাগপলাশের আগপলাশের লাশের ফাঁকে অস্তরাগী জ্বলন্ত সিগারেট টোকা মেরে ঝেরে দিচ্ছে সূর্যপোড়া ছাই, এত উৎকট বৈষম্য এখন নদীর পাড় জুড়ে, এমনটা দেখিনি আগে।  ঠিক যেন একটা মানুষ মরে এবং তারপর পুড়ে গেল নদীর কাছে এসে। নার্ভাস সিস্টেম বিগড়ে যাওয়া পা সেখান থেকে পালিয়ে  যতদূর যেতে পারে শর্ষে বেগুনের খেতের দিকে ততদূরই বসন্তের নির্মাণকাজ চেয়েছিলাম। স্বচ্ছলতা ছাড়া তো আমার কোনো স্বপ্ন ছিল না। কোনো প্রত্যুষের কাছেই আমার আর কোনো প্রত্যাশা নেই। তবে যে স্বপ্নগুলো ঝেড়ে ফেলা হল আর তো বয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না,তাই চুড়ি ভাঙার টুকরোগুলো কুড়িয়ে  নিয়েই চললাম....  


রুখসানা কাজল

হরিপ্রিয়া

একটি হারাণো দুপুরকে খুঁজে নিতে পরিত্যক্ত স্মৃতিঘরে হানা দিয়েছি
চেনা চেনা রাস্তা কৃষ্ণ তুলসির ঝোঁপ ঝাড় হাস্নুহেনার সুগন্ধে 
সুরটা শুনতে পাচ্ছি, 
মাধবী জড়ানো গেট জং ধরেছে লাল মোটা করে   
ঘাসে ঘাসে ঝরা করবীর হলুদ আসন পেরিয়ে
খোলা বারান্দায় সুরটা ঘুরে ঘুরে কেঁদে যাচ্ছে বাতাসে

তোমার ত সব ছিল
প্রিয় পুরুষ,বাধ্য প্রেম,চাইলেই পুর্ণতার শ শ ব্যস্ততা 
তবু কাঁদতে কেন নিদাঘ দুপুরে একলা বসে বারান্দায়? 
এক জনমে আর কত পুজা বাকি ছিল সমর্পণের ?

দুপুরটা দিয়ে গেলে,সুরটাও
কেবল লক্ষ্য পেলাম না আজও!
বেলা শেষের শুদ্ধ ঘাটে তাই গেয়ে যায় মায়া মন
হরিপ্রিয়া সুজনেষু হয়নি হয়নি হয়নি সমাপন।।

অজন্তা রায় আচার্য

রামধনু

তবে যে নদী বলেছিলো
উতলা হয়োনা সময়ে ঠিক ফিরে আসবো।         
বুঝি সে পথ হারিয়েছে !
বুকে তার অনন্ত আকাশের ছবি আঁকা ছিলো  
 তবে এই আকাশের সাথে কোনো  মিলই নেই ,  
 প্রসাধন   প্রয়োজন হতো না তখন তার ,              
রণে শুধু হাজার বুটির নীলাম্বরী জামদানি   , 
কখনো মেঘের বুটি র আঁচল 
নামিয়ে দিত চিলে কোঠায়---                                
আমি  ও অনুসরণ করে সোজা চিলেকোঠায়,      
তারপর জ্যোৎস্নার হাত ধরে চাঁদের সাথে            
কেবলই দেওয়া নেওয়া খেলা, 
কতো মান অভিমান।                                         
 ছাদে শীতল পাটি পেতে চিৎ হয়ে অপলক তারার কারুকাজ দেখা  ,
রোদ বৃষ্টির উৎসব হলেই  আকাশ সেজে উঠতো মহার্ঘ রামধনু রং বালুচরী তে।
এখন আর সেসব কিছুই দেখা হয় না,
এখন নিজস্ব কোনো  ছাদ নেই,নিজস্ব কোনো আকাশ নেই।
ইদানিং চিলেকোঠায় আর কেউ আসেনা,
সেই চিলেকোঠাই নেই!
     
                               


সঞ্চিতা চক্রবর্তী

অতিক্রান্তে লক্ষ্মণরেখা

পেরিয়েছি লক্ষ্মণরেখা,
এ পারে অযথা নেই
অবাঞ্ছিত রাবণ....
ভিক্ষুক ব্রাহ্মণ ছদ্মবেশে, 
নেই অপেক্ষমান আকাশযান।
কুটির প্রাঙ্গনে পড়ে অলংকার যত,
যদি প্রয়োজনে আসে প্রজাবাৎসল্যে
বনবাসী প্রিয় রাজাটির!
আগ্রাসী কৌতূহল গণ্ডীর ওপারে
আর লক্ষ্মণরেখাটির শক্তি যাচাইয়ে।
অতএব ভীরু পায়ে, দৃঢ় মনে
লক্ষ্মণের কেটে যাওয়া গণ্ডীর
অতিক্রান্ত সহজ সমীকরণে,
সীতাদের স্বাধীন উড়ালডানা
আমিত্বে ইচ্ছা - স্পর্শী আজ,
......দ্বিধাহীন বসুধার বুকে।

রাজশ্রী ব্যানার্জী

পারদ

কিছু অভিমান বরফ হয়েই থাকা ভালো। আজকাল ভ্রমে কিংবা সজ্ঞানে
তুমি নিরুত্তর,ভাবলেশহীন ছবি হয়ে থাকো । আমার পন্ঞ্চ ইন্দ্রিয়ের চাবুক
রক্তাক্ত করতে থাকে হৃদয়ের পরিখাকে । ঘুমের অছিলায় চোখ বুজে থাকা ,
স্মৃতি ভর করে হেঁটে যাওয়া সেই আলপথ ধরে,যেখানে জমে থাকা
অতীতের আবেগ এক একটা মাইল স্টোন হয়ে আজও বেঁচে আছে ।
চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অন্ধকারে কালো হতে থাকে
বালিশ,বিছানা,ঘর,পৃথিবী । আমি সেই কালো অন্ধকারে
যন্ত্রণাগুলোকে পারদ হয়ে জ্বলতে দেখেছি ।



মন্দিরা ঘোষ / দুইটি কবিতা

মরীচিকা

এখনো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি
মুহূর্ত দিন মাস।
অহংকারের গর্ভদাগ 

অতল জ্যোৎস্নাযোনির তাত।
মরীচিকাবাস।লালনের গন্ধ।
লোলুপ!  বিস্ময়ে কাতররং!

ছেঁড়া ছেঁড়া ঝিল্লির আলো।
আম্বিলিক্যাল কর্ডের মুখ ।
এখনো লাল ।
বিচ্ছেদে রাঙা 

ছিঁড়ছে অঝোর কান্নাপার।
নাড়ীর আকুল সংযোগ।


মৃত্যুর নকশা 

একবারই তো নুয়ে আসে
একবারই আলোর দহন 
এই অভ্যন্তর ধুলোর বুদ্বুদ
 শুধু কান্নার আশ্রয়

ঋতুগন্ধে আদিম আতুর
ছোটো ছোটো দিনের শাসন

রোদের আহ্লাদে  ঘেরা 
শান্ত জুড়নো  অবকাশ

একবারই  শুধু কাঙাল বাঁচা
জলের আদরে আঁকা
মৃত্যুর  একান্ত  নকশা 


সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী

সেরেনডিপিটি

আমি দাবা খেলা শিখেছিলাম ছোট বেলাতেই

সাদা কালো চৌকো কোনাকুনি

আড়াই চালের অশ্ব অশ্বশক্তি হিসেবের খাতা

ওদের  চোখের তারা লোভ লালা নোংরা  কাটমানি

এপার ওপার থেকে কিস্তি দেওয়া
মাতের ফিকির

সব ফন্দি বুঝে যাই চোখের ভিতরে ফুটোস্কোপ
মগজের খোপে খোপে
উঁকি দেয় লুকোনো  দূরবীন

বোঝেনি  পাবলিক  মাল আপামর নেহাৎ  জনতা

অনেক অনেক আগে
জেনে গেছি সাদা ফুল মালা
কোন পথে হাঁটে আর
বাঁক ঘোরে শববাহী গাড়ি
দশ বারো ষোলো চাল আগে থেকে

চাল ভাবো চাল

এই দাগে পা দিলেই
খতম
নিখুঁত কিস্তিমাত