৮ম বর্ষ ২৪তম সংখ্যা ২৬ এপ্রিল ২০১৯

এই সংখ্যার লেখকসূচি : পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, মন্দিরা ঘোষ, হরপ্রসাদ রায়, উদয় চক্রবর্তী, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, সোনালি বেগম, সুবীর সরকার, রমা সিমলাই, নাসির ওয়াদেন, শাশ্বতী সরকার, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, কাজরী তিথি জামান, বর্ণশ্রী চক্রবর্তী, স্বপ্না বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্ঘ্য রায় চৌধুরী, পারমিতা চক্রবর্তী, ফিরোজ আখতার, সুধাংশু চক্রবর্তী, গৌতম কুমার গুপ্ত, সুজাতা দে ও দেবলীনা দে ।

              সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন

সবিনয় নিবেদন

প্রতিবারের মত এবারও অন্যনিষাদ ‘কবিপ্রণাম’ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হবে ৯ মে (২৫শে বৈশাখ) । কবিপ্রণাম সংখ্যার জন্য রবীন্দ্রনাথকে ছোঁয়া কবিতা আহ্বান করছি ।
 লেখা পাঠাবেন অভ্রতে টাইপ করে, ৩রা মে'র মধ্যে এই ঠিকানায় anyonishadgalpo@gmail.com 
                                                               

পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী

আপনি কিছু দেখেননি স্যার

সবাইকে ছেড়ে দিচ্ছে
সবাই আসলে ঠিকঠাক ছিল

কিন্তু কথা হ'ল নামগুলো গেল কি করে
দাঙ্গায় বোমা মারায় ধর্ষণে ত্রিশূল মিছিলে
নামগুলি ঠিক জড়িয়েই ছিল --

এত এত নাম তাই গেল কি করে
পূজা উপাচারের বস্তু সব ঠিক ঠিক করে
বাইরেই সাজালে, সব ঠিকঠাকই ছিল
দেখাবে দেখাবেই ---


মন্দিরা ঘোষ

ইস্টার 

এপ্রিল বুঝি এমনই হয়
বোকা বানানো যায় সহজে
যেমন করে বোকা বনে যায় সিংহল
যেমন ভাবে  প্রার্থনার মুখ
গির্জার ঘণ্টাধ্বনি 
থেমে যায় বেবাক আকস্মিকতায়

সাংগ্রিলা হোটেলের চাকচিক্য
 ভুলে যায় এপ্রিল হল একটি বোবা ফুলের নাম 
বোকা আর থ মেরে যাওয়া শান্ত দ্বীপের
আগেভাগে বোঝা উচিত 
ইস্টার আসলে শুধু যিশুর মৃত্যুর পুনরুত্থান নয়
  একটি ধর্মীয় অভ্যাস 
যেখানে প্রার্থনাঘরের ঈশ্বর ও বোবা হয়ে যায় নিষ্ঠুর সন্ত্রাসে



হরপ্রসাদ রায়

আজ,এসময়

সামনের কোন বাঁকই বন্ধুপ্রদ নয়
অন্ধকার ক্রমশ বর্ধিষ্ণু
যে কোন আলোই আবছায়া, পরিচয়ে অবান্ধব লাগে

জন্ম(স্ব)-ছাদের নিচে স্নায়ুতন্ত্রে ভাগাভাগি ছিল
অবিশ্বস্ত পক্ষঘাত  পুঁতেছে সাইনবোর্ড  তার কড়িকাঠে
ঘরের শব্দরা সব উঠোনেও দুর্বোধ্য ভাষার প্রতিধ্বনি  

অনিবার্য দূরত্ব বেড়েছে, প্রতিযোগী মন দুর্নিবার
লক্ষ্যে রাখা লাল ফিতে সরছে সবার অলক্ষ্যেই
ম্যারাথনে ভাগীদার উষ্ণ রক্তে আদিম আশারা

মাইওপিয়া লেন্স চেঞ্জ জীবনান্ত মহার্ঘ্য ভাতায়
দানে দগ্ধে  দক্ষিণায়  সংখ্যাহীন বিপিএল নাম
রক্ত স্বেদ মুছে ফেলা টিস্যুতেই মুখরিত শ্বাপদ উৎসব...


উদয় চক্রবর্তী

ভয়ঙ্কর স্বপ্ন

যখন ছোট ছিলাম
  স্বপ্ন দেখতাম বড় হওয়ার।
যখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবন-
  স্বপ্ন দেখতাম
   ফাল্গুনে, বর্ষার অপরূপ রূপ।
    ভালোবাসার কত রঙের মেলা।
স্বপ্ন দেখার অধিকার যেন
   কেবল আমার, কেবল আমার।
এখনো দেখি স্বপ্ন, ভয়ঙ্কর সে স্বপ্ন,
শুধু রঙ গুলো হারিয়ে গেছে কোথায়।
 খোলা বুক হাড়-পাজরে কোন শিশু
মৃত্যুর প্রহর গোণে।

   ধেয়ে এসে... গ্রাস করছে সিংহাসন
নিপুন রসায়ণে।
গোপনে ধারাল অস্ত্র হাতে-
ওরা স্বপ্ন ফেরি করে
গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে।
গ্রামে-গঞ্জে অসহায় সেই সব
সারিবদ্ধ নিরন্ন, জীর্ণ মানুষের 
এক থালা সাদা ভাতের স্বপ্ন নিয়ে।

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

রৌদ্রের ভিতরে চিঠি

রৌদ্রের ভিতরে চিঠি লিখে কতবার অজান্তেই ছিঁড়ে ফেলেছি 
ঠিকানাবিহীন ঘুমে আজও এক স্বপ্নভূক দৃপ্ত মায়াঘরে বাকলের দিন খুলে নিজেকে উজাড়  করে  ভালোবাসে  কেউ

অন্ধকার ঠোঁটে নিয়ে রাত বোনে যে বিনিদ্র চাঁদ
চেয়ে থাকি অপলক তারই দিকে

জানালার পাশে বসে ধানখেত শস্যে শস্যে সোনালি হয়েছে

তোমাকে লিখেছি চিঠি কতবার জ্বরে ও অসুখে
আরোগ্যের শব্দচিহ্ন স্খলিত স্নেহের স্পর্শ আমার সিথানে

তোমার অক্ষরগুলি রৌদ্রের ভিতরে চিঠি,অনির্বাণ আলো।

সোনালি বেগম

স্পন্দন

পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত জলের হ্রদ কাম্পিয়ন
সাগর। ক্রন্দনরত মেঘ ঝরে পড়ে, চিবুক ছুঁয়ে
টপটপ মাটির বুকে। ক্রমশ ঘনত্ব বাড়ে
চার ডিগ্রি তাপমাত্রায় হিমজল। কাচ কাটে
হীরকখন্ড। হিলিয়াম বেলুন উড়ে উড়ে দেশ-দেশান্তর।
মানব-হৃৎপিন্ড জীবৎকালে গড়ে দুশো কোটি-বার
স্পন্দিত হয়। কাছাকাছি বসবাস, এই বেঁচে থাকা
এবং ক্ষেত্রফল জড়িয়ে যায় ভালোবাসায়। 


সুবীর সরকার

সম্পর্ক

এভাবেও তো সাজানো যায়
শিকার ধরবার তাড়া নেই
ভিজে ঘাসের ওপর নদী উঠে
               আসে
মেঘের ছায়ায়
সম্পর্ক তৈরি
       হচ্ছে


রমা সিমলাই

অহঙ্কারী অন্বেষণ

কোলাহল থেমে গেলে
মুঠো ভর্তি মুগ্ধ নির্জনতা দাও,
কৌপীনে সন্ন্যাস নিয়ে ততটুকু অপেক্ষায় আছি।
ফসলের নিঃশ্বাস নির্বাসিত মাটিকে
আগলে রেখেছে অনন্তকাল, তা নিয়ে
স্বর্গের দ্বেষণা  ধীরে ধীরে
শরীরে ছুঁয়েছে মৃতবৎসা মেঘ :
জরায়ুতে জরাজীর্ণ চাঁদ
ক্রমায়ত ক্ষীণ হতে হতে
জটায় রেখেছে তার আশ্চর্য কোমল দেহ।
মৃত্যুঞ্জয়ী হয়েছে নিমেষে ;
জটিল জটা কি জানে অমৃতযোগ.....

কোলাহল জানে শুধু ঘনিষ্ঠ ঘনঘটা,
একদিন মুখোমুখি ভেঙে যায়
আবাল্য প্রণয়।  কড়িকাঠে ঝুলে থাকে
বাস্তুসাপ।  কড়াপাকে যুদ্ধ লেখে আপনার জন....

কঠিন  শব্দবাণে  এফোঁড় ওফোঁড় করে  আহ্লাদী
স্বজনের বুক, দাঁত নখ ঢেকে রাখা নাগরিক মুখ
সুখ  পায়,
সুখ পায়,
নাভিকুন্ডে তীক্ষমুখ শলাকা দহনে !!

আমিও  ফিরেছি আজ
আন্তরিক মুখোশের দাহকার্য সেরে
         আশ্চর্য কৌপীনে

নাগরিক অহঙ্কার নয়, নবান্নের উৎসবে পৌঁছে যাবো
                    ধরণীর শান্ত শরীরে

            তাকে আমি সুখ বলি, বলি অন্বেষণ !!

নাসির ওয়াদেন

দীর্ঘযাপন   

পরস্পর বিরোধী বাতাসগুলো একেবারে
 
নিরপেক্ষ গন্ধের আঁচলে আটকে আছে
   
গোমড়া রোদও হেসে হেসে উঠে
শিমুল ফুলের সোহাগীপ্রশ্রয় পেয়েই
 

অতিক্ষিপ্ত উল্লাসেরা বিঁধে আছে ঠোঁটে
 
লাবণ্যময় দিন পরস্পরের প্রতি,
 
বিনিময়ের নিয়মপ্রথা অনাদায়ী বসন্তের
চোখে মুখে জৌলুসের ছাপ আঁকে ,
হিরণ্যরোদ ঝিলিক দিচ্ছে প্রত্যাশার জিভে

দীর্ঘযাপনে অজুহাত কোণঠাসা,সহিষ্ণুতার হাত দীর্ঘ
 
                      

           

শাশ্বতী সরকার (টালিগঞ্জ)

অভিষেক

প্রকৃত প্রেম এলে আবার দেহবোধ জেগে ওঠে
জেগে ওঠে এই পৃথিবীর আলো জল হাওয়ায় লালিত
একটি উষ্ণ প্রস্রবণ
তুমি তাকে ভুল নামে অভিহিত কোরো না,প্রিয়!

সন্ন্যাসীও প্রেমেরই সন্তান

দায়িত্ব তাকে অস্বীকার করেছে বলে
কবিও যদি অস্বীকার করেন
তবে তিনি সত্যবিচ্যুত

সত্যের অপলাপ নয়,
তাকে স্বীকার করেই
স্বধর্মে অবিচল থাকার নামই
পথ চলা

আমার প্রেম তোমাকে অমরত্ব দিক
তোমার প্রেম আমাকে শক্তি

এ দুয়ের মিলনেই তো দেবশিশু আসে

এ দুয়ের মিলনেই তো রাশি রাশি
ফুলেদের সমাহার
তোমায় ও আমাকে ঘিরে

এসো প্রিয়, মন্দিরসম এ দেহকে
আরেকবার পরিমার্জনা করি

সত্যের অভিষেক হোক তাতে

সত্য ছাড়া, পরিপূর্ণ ভালবাসা ছাড়া
এ জগৎ মরুময়

রুক্ষ মরুতে কিছু বারিসিঞ্চন করে
এসো, আমরা মরুদ্যান গড়ে তুলি

বিষ্ণুপ্রিয়াকে ত্যাগ করে নয়
এসো,তাঁকে সঙ্গে নাও,প্রিয়,

তাঁকে সঙ্গে নিয়েই চলো প্রেম বিলোতে
নগরে, গ্রামে ও প্রান্তরে..

ঝর্ণা চট্টোপধ্যায়

পাপ-পূণ্য

ক্ষুণ্ণ, কাতর মুখ নিয়ে ঘুরিফিরি তোমার
কাছে কাছে
ক্ষুধার্ত শিশু যেমন মুখ ঘষে মায়ের বুকে
তেমনই ইচ্ছে করে
কাতরতায় খামচে ধরি বুক, তোমার নগ্ন হাত

যাই, কাছেও যাই
এক আঁজলা পান করি তোমার সরোবর থেকে

লোনা,কটূ বিষাক্ত জল...

পরিশ্রুত জল তুমি দিয়েছ কাকে?
সেও কি ক্ষুধার্ত ছিল আমার মতন?

পূণ্যের লোভে তুমি ভালোবাসা দিয়েছ বিকিয়ে!!

কাজরী তিথি জামান

উত্তর-ফাল্গুনী

আমাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল না ৷
পূণরায়,আরো একবার অথবা কখনো ৷
আমাদের হাত-মুখ,চোখ-হাত,হাত-পা
আমাদের বোধ-সুখ,শোধ-বোধ,বোধ-বুদ্ধি
কখনো আসবেনা কাছে;কখনো বসবে না পাশে
কখনো বুকের দাঁড়ে পাখি হবে না ৷
কখনো কামরাঙা ডালে ফুল হবে না ৷
আমাদের যুক্তি-বিন্যাস,যুক্তিতর্ক,যুক্তি-উপযোগ
আমাদের স্বেচ্ছাশর্ত,স্বেচ্ছা-শান্তি,স্বেচ্ছা যোগ-বিয়োগ
কখনো জীবনের রাজপথে মিছিল করবে না,
কখনো সজীবতায় পোকা ছড়াবে না,
কখনো আসবেনা কাছে;কখনো বসবে না পাশে
আমাদের শর্তহীন অনাচারে,
আমাদের উচ্ছ্বাসিত কলোরবে
আমাদের কাঙ্খিত পরিসরে……………….
তবুও এলো !এলো--তো একদিন !
বিকেলের কনে দেখা আলো মেখে
শেষ ডাকে নীলখামে চিঠি লিখে,
শীতের তীব্র আলিঙ্গনে
নিবেদিত হলো বিসর্জন.
অথচ কোনো কথা ছিল না ,
অথচ ছিল না আয়োজন ৷
অথচ একেবারেই নিশ্চিত..
কিংবা বিবেচনায় পরিমিত
আমাদের দেখা হলো,কথা হলো
আমাদের সরোবরে নীলজল;
আমাদের ঠিকানা অবিচল-
আমাদের পরিধি উন্মুক্ত
আমাদের স্বত্ত্বা নিবিড়ে সিক্ত
আমাদের দেখা হয় আবারও
আমাদের দেখা হয় পূণরায়…….৷৷

বর্ণশ্রী বক্সী

পূর্বাভাস

হঠাৎ করেই আঁধার ঘনিয়ে আসে 
বৈশাখী দুপুরে, 
উড়ে যাওয়া ধুলো লিখে যায় কিছু কথা
ও বাড়ির মেয়েটি স্মৃতিমেদুরতা নিয়ে 
ব্যালকনির কোণায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখে 
অদ্ভুত এক বিষাদের ঘনবদ্ধ সুর!

পূর্বাভাস ছাড়াই কালবৈশাখী ছুটে আসে
ব্যস্ত শহর, ব্যস্ত জীবন আর মনের নিয়ন্ত্রণ রেখায়,
মাঠে মাঠে জেগে ওঠে সৃজনের গান 
ঝুঁকে থাকা শরীর শৈল্পিক বিভঙ্গে ধান বোনে
রাখালিয়া বাঁশির তানে বিরহ 
এভাবেই পরম্পরায় চলে জীবনের প্রবাহ ।