৮ম বর্ষ ৩৬ তম সংখ্যা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এই সংখ্যার লেখকসূচি : সুরঙ্গমা ভট্টাচার্য,কাকলি ভট্টাচার্য, কাকলি দাশ ব্যানার্জী, পিয়াল রায়, জয়াশিস ঘোষ, বৈশাখী চক্রবর্তী, চিরশ্রী দেবনাথ, শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়, তরুণ গাঙ্গুলী, জপমালা ঘোষ রায়, মহুয়া সমাদ্দার, রানু সরকার, শাশ্বতী ভট্টাচার্য, গোলাম কিবরিয়া পিনু, জারা সোমা, চিরন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়,  ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মুখোপাধ্যায়, সুতপা সরকার, জ্যোতির্ময় মুখার্জি ও অপর্ণা বসু । 

                   সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন

সম্পাদকীয়


আজ ২৬শে সেপ্টেম্বরসিংহপুরুষ বাঙালি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আজ সেই কর্মময় মহাজীবনের দ্বিশত বর্ষপূর্তি । শিরোনাম লিখেছি সম্পাদকীয় । না, এই মহাজীবন সম্পর্কে কোন প্রতিবেদন লেখার ধৃষ্টতা  ত্যাগ করে তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের একটি ভাষণের কিছু অনহশ উদ্ধৃত করে সম্পাদকীয় দায় সারলাম । ১৯০৬এ কলকাতায় বিদ্যাসাগর স্মরণার্থ সভায় রবীন্দ্রনাথের ভাষণের অংশ, যা ঈশ্বরচন্দ্রের জীবন বৃত্তান্তের সারাৎসার ।

বিদ্যাসাগর চরিত্রে যাহা সর্বপ্রধান গুণ, যে গুণে তিনি পল্লী-আচারের ক্ষুদ্রতা, বাঙালিজীবনের জড়ত্ব সবলে ভেদ করিয়া একমাত্র নিজের গতিবেগপ্রাবল্যে কঠিন প্রতিকূলতার বক্ষ বিদীর্ণ করিয়াহিন্দুত্বের দিকে নহে, সাম্প্রদায়িকতার দিকে নহেকরুণার অশ্রুজলপূর্ণ উন্মুক্ত অপার মনুষ্যত্বের অভিমুখে দৃড়নিষ্ঠ একাগ্র একক জীবনকে প্রবাহিত করিয়া লইয়া গিয়াছিলেন, আমি যদি অদ্য তাঁহার সেই গুণকীর্তন করিতে বিরত হই তবে আমার কর্তব্য অসম্পন্ন থাকিয়া যায় কারণ, বিদ্যাসাগরের জীবন-বৃত্তান্ত আলোচনা করিয়া দেখিলে এই কথাটি বারম্বার মনে উদয় হয় যে, তিনি বাঙ্গালি বড়োলোক ছিলেন তাহা নহে, তিনি রীতিমত হিন্দু ছিলেন তাহাও নহে - তিনি তাহা অপেক্ষাও অনেক বেশি বড়ো ছিলেন, তিনি যথার্থ মানুষ ছিলেন বিদ্যাসাগর জীবনীতে এই অনন্যসুলভ মনুষ্যত্বের প্রাচুর্যই গৌরবের বিষয় তাঁহার সেই পর্বতপ্রমাণ চরিত্রমাহাত্ম তাঁহারই কৃত কীর্তিকে খর্ব করিয়াছে

তাঁহার প্রধান কীর্তি বঙ্গভাষা যদি এই ভাষা কখনো সাহিত্য-সম্পদে ঐশ্বর্যশালিনী হইয়া ঊঠে, যদি এই ভাষা অক্ষয় ভাবজননীরূপে মানবসভ্যতার ধাত্রীগণের মাতৃগণের মধ্যে গণ্য হয়যদি এই ভাষা পৃথিবীর শোক-দুঃখের মধ্যে এক নূতন সান্ত্বনাস্থল, সংসারের তুচ্ছতা ক্ষুদ্র স্বার্থের মধ্যে এক মহত্বের আদর্শলোক, দৈনন্দিন মানজীবনের অবসাদ অস্বাস্থ্যের মধ্যে সৌন্দর্যের এক নিভৃত নিকুঞ্জবন রচনা করিতে পারে, তবেই তাহাঁর এই কীর্তি তাহাঁর উপযুক্ত গৌরব লাভ করিতে পারে ...
বিদ্যাসাগর বাংলাভাষার প্রথম যথার্থ শিল্পী ছিলেন

...
দয়া নহে বিদ্যা নহে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চরিত্রে প্রধান গৌরব তাঁহার অজেয় পৌরুষ, তাঁহার অক্ষয় মনুষ্যত্বএবং যতই তাহা অনুভব করিব ততই আমাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিধাতার উদ্দেশ্য সফল হইবে এবং বিদ্যাসাগরের চরিত্র বাঙালির জাতীয়জীবনে চিরদিনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকিবে 

'বেচে থাকো বিদ্যাসাগর চিরিজীবি হয়ে'ঈশ্বরচন্দ্রের দ্বিশত জন্মবর্ষে  অন্যনিষাদের বিনম্র প্রণাম ।


কাকলি ভট্টাচার্য

হে অগ্নি

বিপদে সম্পদে চিরায়ত ভাবনায়,
অকূলে অসম্ভবে নিয়ত চেতনায়,
জীবন ভরে দেখেছি তোমার
অগ্নিশুদ্ধ রূপ 
বিপুল তরঙ্গে আনত গৌরবে ,
চিরজীবী তুমি প্রাণময় সৌরভে,
জীবন বিহারী দিয়েছ নারীকে
উঠে দাঁড়ানোর সুখ।
সীমাহীন দর্পহীন দ্বিধাহীন মনে-
স্থির লক্ষ্যে অকুণ্ঠ দানে 
বৃক্ষছায়ায় এল সাঁওতাল দল
মাটির কাছাকাছি অরা চিরকাল 
তাদেরই একজন হতে চেয়ে
তোমার মিনতি মৃত্যুর কাছে 
 দাঁড়াও পথিকবর তিষ্ঠ ক্ষনকাল 
এখনও বাকি আছে কাজ ,
দরিদ্র নিঃস্ব মধু-কবি অসহায়
এবং মেয়েরা আজো অপেক্ষায়
আসবেন গুরু তাদের নিয়ে নতুন সাজ।
হে অগ্নি,
যন্ত্রের গ্রাসে আজ দেশ  কাল
চারিদিকে কিলবিল পোকার দল।
তারই মাঝে বটবৃক্ষ রূপে তোমায় দেখা
দুশো বছর আগের মতই চিরায়মান  একা।

বিপদে সম্পদে চিরায়ত ভাবনায়,
অকূলে অসম্ভবে নিয়ত চেতনায়,
জীবন ভরে দেখেছি তোমার
অগ্নিশুদ্ধ রূপ ।
বিপুল তরঙ্গে আনত গৌরবে ,
চিরজীবী তুমি প্রাণময় সৌরভে,
জীবন বিহারী দিয়েছ নারীকে
উঠে দাঁড়ানোর সুখ।
সীমাহীন দর্পহীন দ্বিধাহীন মনে-
স্থির লক্ষ্যে অকুণ্ঠ দানে
বৃক্ষছায়ায় এল সাঁওতাল দল
মাটির কাছাকাছি অরা চিরকাল ।
তাদেরই একজন হতে চেয়ে
তোমার মিনতি মৃত্যুর কাছে
দাঁড়াও পথিকবর তিষ্ঠ ক্ষনকাল
এখনও বাকি আছে কাজ ,
দরিদ্র নিঃস্ব মধু-কবি অসহায়
এবং মেয়েরা আজো অপেক্ষায়
আসবেন গুরু তাদের নিয়ে নতুন সাজ।
হে অগ্নি,
যন্ত্রের গ্রাসে আজ দেশ ও কাল
চারিদিকে কিলবিল পোকার দল।
তারই মাঝে বটবৃক্ষ রূপে তোমায় দেখা
দুশো বছর আগের মতই চিরায়মান একা।