৯ম বর্ষ ১৫শ সংখ্যা ২৮ জুলাই ২০২০

এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতা লিখেছেন : সবর্ণা চট্টোপাধ্যায়, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, অনিমেষ সিংহ, পিনাকী দত্তগুপ্ত, জয়ন্ত বাগচী, সুবীর সরকার, তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়, পারমিতা চক্রবর্তী, কৌশিক চক্রবর্তী, জ্যোৎস্না রহমান, খাতুনে জান্নাত, কামরুন নাহার কুহেলী, সেমিমা হাকিম, উজান উপাধ্যায়, রূপক সান্যাল, স্নিগ্ধা বাউল, দিগন্ত রায়, মন্দিরা ঘোষ, সতীনাথ মাইতি, পার্থ রায়, বচন নকরেক, মনামী সরকার, স্বাতী বিশ্বাস, দেবলীনা দে ও শান্তিময় কর ।

                     সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন

সবর্ণা চট্টোপাধ্যায় / দুটি কবিতা

আবার একটা সম্পর্কে মন বসাই

সাদা কাপড়ে পেঁচিয়ে রাখি মুখ। 
যদি ধরা পড়ে যায় অভিনয়?
এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে উড়ে আসে 
সাইবেরিয়ান বার্ড, 
দোষারোপ করেনা কোন। 
কিছু অবশ্যম্ভাবী অতীতের মতো, বর্তমান 
মৃত্যু নিয়ে দুহাতে খেলা করে প্রত্যহ। 
ছাই মাখে, 
হাওয়ায় জড় হয় আকার। 
বাতাসে শীর্ণ দুহাত বাড়িয়ে দেয়, 
রোদ বিনিময় হয়, যেন এক ধর্ষিতা মেয়ে মেঘের স্বপ্ন দেখে আবার। 

তবুও ক্ষান্তি নেই। নিস্তার নেই অন্ধকার। 
ধরা পড়ে যাই, রোদের কার্নিভালে। 
উৎসব হয়, পরাজয়ের। 
ভেতরে আগুন জ্বলে। তবু
মুখে হাসি নিয়ে জল ঢালি গাছে গাছে, 
আবার একটা সম্পর্কে মন বসাই!  



শুভদৃষ্টি

অপেক্ষায় ছিল দিন
আমাদের দেখা হল। চুপিসারে কতকথা সারা
যেমন ঘুমালে লোকে কথা বলে পাশাপাশি পাড়া।

নিঝুম তখনো ঘাট আলোছায়া চারপাশে পড়ে
ভোরের পাখির ডাক...অশ্রুধারার মতন ঝরে।

তুমিও কি বুঝেছিলে? 
আমার চোখের নীচে...কালো কালো মেঘ জমে ছিল?
বৃষ্টিজলের মতন দুইচোখে অনিঃশেষ পথ
শপথের ঝুরো মাটি শিখে নেওয়া প্রথা সহবৎ। 

চাঁদের শরীর যেন বরফেতে ঢাকা পড়ে আছে
চোখেতে ডুবছে চোখ, সময় থমকে যেন গেছে

চুপিচুপি আসে মেঘ, ঝরে পড়া ফুলের বৃষ্টিতে
সিঁথিতে বইছে জল, দুটিচোখের শুভদৃষ্টিতে ! 


দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

তিনটি ছক্কা


সম্মোহন
এই আলোর
দীর্ঘ বারান্দা অবাক
এই জামা তার নয়
বৃষ্টির গা থেকে খুলবার পর
তার প্রতি কলকবজা যেন গলা সোনা


ছুরি
ঠান্ডা শিরশিরে
নেমে আসছে আপেলে
কাটা হচ্ছে একটি দৃশ্য
রক্তপাতের পর সাদা লাশ
কাঁটা চামচ দিয়ে চালান হয়ে যাচ্ছে


অপেক্ষা
তাকে ভাঙছে
চিঠি লেখা শেষ
সে ভেঙে দিচ্ছে কলম
ঢুকে পড়ছে একটি সম্ভাব্য অপমৃত্যু
অথচ কোনো কিছুই অগোছালো নেই এখন

অনিমেষ সিংহ

নগর-দর্শন

তরঙ্গাকারে তুমি এলে,
হলুদ পাতা কুড়িয়ে, টিনের গাড়িটা,
--- শহর ছাড়িয়ে চলে গেল,
 ---ক্যামেরাম্যানের দিকে;

বিনয়ী মানুষেরা, সবুজ জামার ওপর, ফুটিয়ে তুলেছেন, মারাংবুরু!
পাহাড়ের মাথা গড়িয়ে নামছে, শুশুনিয়ার!
নদীপথ লুঠ হয়ে গেছে-!

শালগাছে, কদম ফুটেছে গো!
মহুলগাছে আটকে আছে, লিঙ্গবাস!

চিত্রনাট্যে, মাম্পি সিং এবং পুলিশের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে,
কর্পোরেট সরকার।

কেউ ফিল করেনি,
ধর্ষণের বিভৎস যন্ত্রণা!  সাংবাদিকও নয়! আমি তাই, গিটারিস্টের কাছে শুনে নিচ্ছি, বিরহের সুর

মাম্পির শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে, বসরাই গোলাপ।
সারা ভারতবর্ষে, ছড়িয়ে পড়ছে গোলাপ।

হিন্দু ও মুসলমান এবং ফকিরের ভগবান --

তিনজনই নেমেছে, সিনেমায়।

ওষুধের ব্যাবসা নিয়ে, ব্যাস্ত সম্রাট!
একটা দড়ির খোঁজ পেয়ে গেছে, বণিকের চোখ!
ভাইরাস।
পুরোপুরি বাঁধা পড়ব এখন।
অধিকার কিনে নিতে হবে আমাদের, কিনে নিতে হবে প্রেম!
সবকিছু বণিকের, পথ ও পাথেয় সব!

এদিকে রাষ্ট্র বলে গেলো, নগরেই হবে, বন-মহোৎসব।



পিনাকী দত্ত গুপ্ত

ফসিল

সবাই বলছে, চল ঘর চল!
বাতাসে উড়ছে মানুষের ছাই;
নাক বেঁধে রাখি, চোখ ছল ছল,
এ কেমন বাঁচা, বাঁচার লড়াই?

ঠাসাঠাসি ঘর, দশ বাই আট;
পাসাপাসি শুয়ে আধপেটা মুখ,
বস্তায় বেঁধে রাখা রাজ-পাট,
এ কেমন বাঁচা, এ কেমন সুখ?

বুজে আসে গলা, জ্বলে যায় বুক,
অ্যাম্বুলেন্সে নীল আলো জ্বলে;
ঘিরে ধরে কিছু অজ্ঞাত মুখ,
এ কেমন বাঁচা মিথ্যের ছলে!

শুনেছি শিশুটা মরেছে না খেয়ে,
পাখি উড়ে গেছে, খাঁচা আজ ফাঁকা;
কড়ি-কাঠে ঝুলে মরেছে স্বামী টা,
"এ কেমন বাঁচা, বেঁচে মরে থাকা?"

তবু দলে দলে হাঁটছে মানুষ,
এখনও যাদের ঘরে ফেরা বাকি!
হাপর টানছে নীল ফুসফুস...
এ কেমন বাঁচা, এ কেমন ফাঁকি?

অনুদানে ভরা ভিক্ষার বাটি,
রাষ্ট্র তবুও মিথ্যে বলছে!
শতশত মৃত, জীবিতের দল
ধিকধিক করে জ্বলছে, জ্বলছে।।

জয়ন্ত বাগচী

আমাদের দেখা হবেই
  
দেখা তো হবেই- - - -
তুমি বলেছিলে সেই একদিন
প্রযুক্তির বোতাম টিপে ।
অতিমারী করোনা দাপট
একদিন নিশ্চিত নিভে যাবে
শ্রমিক ফিরে যাবে  কারখানায়
মজুর ফিরে পাবে  শ্রমের মর্যাদা
হয়তো সেদিন পাশে থাকবে না
আমার পরিচিত প্রিয়জনেরা !

এমন কত না প্রতিশ্রুতি ভেসে গিয়েছে
বিধ্বংসী ভাইরাসের জোয়ারে
স্নেহের পরশ দেওয়া সেই জন
আজ জমে আছে স্মৃতির এলবামে ।

তোমাকে দেখবো বলে
বুনে গিয়েছি অপেক্ষার রাত
সাঁতরে গিয়েছি করোনা সাগর
এ সত্য বুকে ভরে নিয়েছি সেদিন
আমাদের দেখা হবেই ।

সুবীর সরকার

তথ্যচিত্র

নদীকে তো নদীর জল দিয়েই চিনে নিতে হয়
একটা বাঁশি তো কিনে আনতে পারো অন্তত
                                            আমার জন্য
রিস্টওয়াচে বরফ জমলে 
আমরা প্ৰত্যবর্তনের গল্প বলা শুরু
                                           করি
পৃথিবীতে হাজার হাজার মানুষ গান গাইতে
                                                         পারে না
আমার কোলবালিশের ভেতর পাখি ঢুকে
                                                    পড়ে
আমার পাশবালিশের নিচে সুড়সুড়ি ঢুকে
                                              পড়ে
গোপন চিঠির গল্প আর শোনাবো না
তথ্যচিত্রে গুঁজে দেব ফেরিঘাট


তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়

তারপর

বহুদিন মৃত্যুতে কাটবে।
তারপর তোমার ডাকে
ভেঙে যাবে আছন্ন সময়।

দেখব,
শুকিয়ে যাওয়া পাতায়
কেউ ছুঁইয়ে দিয়েছে উজ্জ্বল রঙ।

বসন্ত প্রান্তে দৌড়াচ্ছে আমাদের সন্তান,
যেন হরিণ শাবক!

আর,
একটি অসামান্য জ্বরে পৃথিবীর সব ব্যাধ ঘুমিয়ে পড়েছে।

পারমিতা চক্রবর্ত্তী

কবিদের মৃত্যু হয় না 

সামনে দিয়ে শত শত কবি হেঁটে যাচ্ছে 
তাদের জামাকাপড়ের ঠিক নেই
নগ্ন শরীরগুলো দলা পাকিয়ে যাচ্ছে 

কবিদের মৃত্যু হয় না 
বরফের উপর শুয়ে শত শত বছর বেঁচে থাকে 

আমি চিনি এমন এক কবিকে 
যিনি রক্ত দিয়ে কবিতা লিখেও
 বাঁচিয়ে  রেখেছেন দেহখানি 

স্তূপ স্তূপ কবিতার কোন স্থান হয় না শ্মশানে 
ভাসিয়ে দেওয়া যায় না গঙ্গায় 
ইদানিং কবিতার খাতা ভরে যাচ্ছে হাড় গোড়ে 

কবিদের মৃত্যু হয় না
তাদের রক্তে থাকে কবিতা 
সেই রক্ত পান করে হাজারো কবি জন্মায়

 মৃত্যু হয় প্রতিযোগীর
কবির মৃত্যু হয় না
প্রত্নতাত্ত্বিক সময় তাকে বাঁচিয়ে রাখে 
অলিন্দে অলিন্দে ছোঁয়াচে বিষাদের  ধোঁয়ায় 
জন্মায় শত শত ...


কৌশিক চক্রবর্ত্তী

প্রেমিকা

প্রেমিকা বলেছ যাকে তার চোখে রেখে যাও আলো
যদিও আতর থেকে তীব্রতার গন্ধও জন্মালো
পালক খুঁজেছে যারা, তার মধ্যে আছে কোনো শোক
পোশাক পরবার আগে শহরেও অন্ধকার হোক

সময়ে জোয়ার থেকে বেছে নিও প্রেমিকার ডানা
লুকনো সেসব অঙ্গ বান্ধবীর সামনে জড়িয়ো না
অকপটে মেনে নাও তুমিও আলোয় ছিলে তাই
শহর চেনেনি শুধু গুনে গেছে অলীক সংখ্যাই

ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা জানি, তার মধ্যে নীল রং মিশে
কখনো দাঁড়ায় পথে, কখনো বা সাহসী কার্নিশে
কাছে যেভাবেই টানো, আসলে আমরাই অভিমানী
চোখের ভণিতা নেই, দৃষ্টি লুকোবেনা শুধু জানি

ঝুঁকে দেখ বহুবার নিজের আয়নায় তোলা ছাই
কালো হচ্ছে নদীপথ, গলিতেও পড়েনি রোশনাই
যারা প্রেমিকাই, শুধু শিকল খুঁজেছে দিন-রাতে
ঠোঁটের প্রমাণটুকু বাঁধা গেছে সীমিত সংখ্যাতে

জ্যোৎস্না রহমান

অদৃশ্য সেতু

সোয়েটার বোনা  কাঁটা দুটি
       পায়ে পা লাগিয়ে  ঝগড়া শুরু করলে
                   শীতঋতু উষ্ণতার খোঁজ পায় 
 
সন্দেহের কাঁটায়  হৃদয়ের বাঁধন আলগা হলে
সম্পর্কের বুনন 
                      জীবনকে জট পাকায়।

তখন মনের আকাশে
              জমাট বাঁধে  মেঘলা নালিশ,
নিম্নচাপের  দাপটে
              তছনছ হয় আটচালা ঘর
আর সংসারী উঠোন হয়ে ওঠে পিছল।

বিচ্ছেদের  অববাহিকায় সেতু নির্মাণের প্রকল্প
          বাস্তবায়ন হতে হতে
 বসন্তের চিলেকোঠায় বাস করা চড়ুই মন
                      খুঁজে নেয় অন্য কোন বাসা।

অথচ উল কাঁটায় লেগে থাকা শীতের গন্ধ
 পুরোনো উষ্ণতায় অদৃশ্য সেতু নির্মাণ করে।




খাতুনে জান্নাত / দুটি লবিতা

তৃষ্ণা ও চিঠি

বৃষ্টির লিরিকে লিখছি তোমাকে
কে তুমি হরিজন নাভিমূলে রেখে গেছ তৃষ্ণার কোলাহল।
এই জ্বর-জ্বর রাত টলছে...
পিদিমের সলতে উড়ে গেলে আঁধারের চারুবৃত্ত।
শ্রাবণে প্লাবনে কেতকী, কেয়া বনে দুলে উঠা আমলকী ছাদ।
বহুদূরে ঘুমিয়ে তিথী; বহুদূরে প্রিয়তমের অপ্রিয় আখ্যান...
তোমাকে লিখছি চিঠি পাতার অক্ষর, ভ্যানগঘ নীলে
গম ক্ষেতের পাশে হুদহুদ ডেকে ওঠে আহত যাপনকালে...
কোথাও রয়েছে ব্যথা হাজার বছরের,
বেলাভূমির আলাপনে উষ্ণ হয়ে উঠা বদ্বীপ চরাচর-
কোথাও ছায়া নড়ে, বেদনার আলপিন;
পাহাড়ের খাড়াইয়ে জংলী লতার ডেরা,
টুপ করে ঝরা বকফুল।
লিখছি ইচ্ছার দূত সূর্যমুখী খামে-
স্নান শেষে ভেজা চুলে ময়ূরগন্ধী কোরিওগ্রাফী।
তোমাকে লিখছি চিঠি আমাজন পোড়া ছাইয়ে...

নামের গভীরে জ্যোতি

একটি নাম লিখতে লিখতে লিখে ফেলি মায়া
গুঞ্জনে গুঞ্জনে পোয়াতি হয় পয়মন্ত সময়
আয়ু বাড়ায় জ্যোতি ও সংগ্রাম
প্রজাপতি হারিয়ে গেছে শুককীট বনে
বনের গভীরে প্রলম্বিত মনের বাহু ও আলোছায়া
এ আমি নদী পাড় ভেঙে চলছি প্লাবনের খর পূর্ণতায়
এ আমি জটাজালে আবৃত সামাজিক আয়ু
এ আমি রজকীনি প্রতিক্ষীত হাজার বছর
একটি নাম লিখতে লিখতে লিখে ফেলি গান
একটি নাম খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যাই নির্বাণ...
পুরনো সিন্দুকে জমানো বইয়ের ন্যাপথালিন মাখতে মাখতে
একটি পারিজাত গল্প হয়ে যাই,
ছন্দের বারান্দায় অলঙ্কার,অনুপ্রাস ও বিন্যাস;
নামের কিনারে লেখা থাকে ইতিহাস!


কামরুন নাহার কুহেলী

অমিমাংসিত ফাঁদ

বড় বেশি সুসময় তোমার-
পেগের পর পেগ সুরার পর
বৃষ্টিভেজা রাত- ভুনা খিঁচুরি- আচারে
স্পাইসি কারি অপেক্ষায় তোমার।
 
অতপর ব্যালকনিতে কড়া কফির
পেয়ালা আর সিগারেটের ধোঁয়ায়
অতীতের টকঝাল মেশানো না পাওয়া
আর পেয়ে হারানোর কল্পগল্পের জালে
সেক্স আপিলময় রাতদিন- দিনরাত কাটিয়ে
পুরানোতে আস্ফালন -
'চুরি, ডাকাতি বা রেপ তো করিনি;
তুমি কারও সাথে চলে গেলে যাও! '

সেমিমা হাকিম

কালান্তক

পালিয়ে বেড়াচ্ছি মারীর ছায়া থেকে
এ দুয়ার থেকে অন্য দোর
এই ছায়া থেকে আগুন পেরিয়ে অন্য প্রান্তর
দূরত্ব বাড়ছে ক্রমে তোমাতে আমাতে
মুছে যাচ্ছে রাসের আবীর
ঝুলনের গান
নিধু-বন
এবং কোলাহল

পালিয়ে বেড়াচ্ছি মারীর ছায়া থেকে
অথবা ডুবে যাচ্ছি গহন অন্ধকারে
হয়ত ফেরা হবে না আগের সংসারে
রইল পড়ে পিছে
তেলের পলা
নুনের ভাঁড়
আমচুর
বালিশ চাদর
আর হলুদ লাগা আঁচল

পালিয়ে বেড়াচ্ছি মারীর ছায়া থেকে
ফেরার পথ যদিও জানা
শুধু সাইনবোর্ডে লেখা
এ পথ ব্যক্তি বিশেষে একমুখগামী...



উজান উপাধ্যায়

অবোধ

পান্ডুলিপি হাতে করে আয়নার  সামনে দাঁড়ালাম।
এই যে প্রেমের কবিতাটা লিখলাম... বলেও যে না বলাটা চেয়েছি..হলো কি তেমন..অথবা যে পুরোপুরি বলা.. তেমন হলো কি?

অথবা তুমুল ভিড়ে না মেশা বৃষ্টির মতো... অথবা একলা মেঘ...নির্জন... ভিড়ে..

প্রেমের কবিতা জুড়ে কোনও এক অমিত জীবন দর্শন...

এতক্ষণ চুপচাপ থেকে আয়নাটা এই বার অট্টহাস্যে ফেটে পড়লো..

দূর মূর্খ..প্রেমের কবিতায় আবার জীবন দর্শন কি রে..তুই ব্যাটা বড্ড অবোধ
প্রেম তো একাই এক জীবনদর্শন... প্রেমই তো জীবনের শ্রেষ্ঠতম বোধ...

রূপক সান্যাল

নিঃশব্দে

 কেউ কাঁদছে

খুব দূরে নয়, কাছেপিঠেই কোথাও

সব কোলাহল আর হা-হা হাসিকে ছাপিয়ে

যারা বনভজনে গিয়েছিল, তাদের
আনন্দকে ছাপিয়ে

ভাষণ-বক্তৃতা আর স্লোগানকে ছাপিয়ে
বিজয়মিছিলের উল্লাসকে ছাপিয়ে,

সশব্দ কবিতা উত্সব আর সাহিত্য পাঠের
আসরের আওয়াজনকে ছাপিয়ে,
সংবর্ধনা সভার হাততালিকে ছাপিয়ে

বিয়েবাড়ির উচ্ছ্বাস আর বাজনাকে ছাপিয়ে

কেউ কাঁদছে

পুজোর উদ্বৃত্ত কেনাকাটা আর
আইসক্রিম কিংবা ফুচকা খাওয়ার
সুখী শব্দকে ছাপিয়ে

সিনেমা আর টিভি সিরিয়ালের
সমস্ত ক্লাইমেক্সকে ছাপিয়ে

কেউ কাঁদছে ......

কেউ কাঁদছে তোমার বারান্দায়


স্নিগ্ধা বাউল

ফিরে এসো আত্মজ

ফিরে এসো আত্মজ
ভূমিপুত্র হয়ে 
সূর্যতাপে ছাই হলো তৃণ
দীর্ঘ চুলের ডগায় পিশাচের হাত 
  দৃষ্টিতে দেখা যায় গভীর ক্ষত এখানে
ফিরে আসো লোকালয়ে
লোকজ ধারার পুত
বাদামী বর্ণের গহন কোণে আগুণে
দুই বাহু প্রসারিত করে ফিরে এসো।
এখানে ঝলসে যাচ্ছে তরল
ফুটছে লাভার মতো ঘুণারা
ভাগাড় হাতড়ে মানুষ  খুঁজে পাইনা।

ফিরে আসো,  ফিরে আসো জল
জলবায়ুর মতো নরম হয়ে
মানুষের নাম হয়ে এসো 
মানুষের আর্তকালে।

        
রোদের দিকে তাকিয়ে দেখি