৯ম বর্ষ ৩১তম সংখ্যা ।। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

   এই সংখ্যায় ২৬টি কবিতা লিখেছেন : শাশ্বতী সরকার (টালিগঞ্জ),উমা মাহাতো, কুমকুম বৈদ্য, ফিক জিবরান, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক চক্রবর্তী, পিনাকী দত্তগুপ্ত, সেমিমা হাকিম, মুজিব ইরম, উজান উপাধ্যায়, মাজহার জীবন, গৌতমকুমার গুপ্ত, সঞ্জয় সোম অরুণ সেনগুপ্ত, সুদীপ্ত বিশ্বাস, স্নিগ্ধা বাউল, শৈবাল বিশ্বাস, তনুশ্রী মল্লিক, সোমা দাস, সৌমেন গুহরায়, শ্রাবণী বসু, লক্ষী নন্দী মলয় সরকার

উমা মাহাতো / দুটি কবিতা

 মানবগ্রহ


পোশাক বেছেছো বলে,তুমি আর পশু নও।

গোপন খুঁজেছো বলে, চরিত্র-প্রবল হাওয়া বয়।

 

নগ্ন বাঘিনীর চোখে চোখ রেখে দেখো-

কসমিক যাদু আছে ধুসর  তারায়।

জঙ্গলের ক্ষিপ্র যৌনতা সবুজ রাখে সম্পর্কহীন আবেগ।

 

সংরাগ ও সঙ্গম তো লাটিমের খেলা।

নিতান্ত দৈনিক।অনন্ত সূর্য-পরিক্রম তুমি অবগত নও।  

 

শুধু কেউ ভালোবাসেনি বলে অযথা

কেন গ্রহান্তর? কেন নীলগ্রহ দূরত্ব হও! 

 

তর্পণ


এই তো ভোর,শরতের আলো

শ্রাবণ ও ফসলবিজয়ী পরিশ্রম

বিবর্তিত অন্তর্গত রক্তে মানবসিক্ত বাসনা

সূর্যের মুখোমুখি সৃষ্টির ঘোষণা    

 

পূর্ব আফ্রিকা থেকে মেসোপটেমিয়া

সিন্ধু থেকে সুবর্ণরেখা 

কোশাকুশি পরিমাণ জল

মৃত্যুর আগে ও পরে 

সন্তানের কোমল-করুণ হাতে তৃষ্ণার সরোদ

আহির-ভৈরব তান

 

পিতৃপক্ষ আমাদের অলিখিত ইতিহাস।আবহমান উত্তরাধিকার কে স্বীকৃতিদান।     

 

 

শাশ্বতী সরকার (টালগঞ্জ)

 বিনোদিনী


যে লেখাকে মঞ্চ ত্যাগ করেনি

সে লেখা পূর্ণসত্য নয়

 

একথা বুঝে গিয়ে কেউ কেউ চলে গেল আলোয়

কেউ বা স্বেচ্ছানির্বাসনে

আর কেউ আলোআঁধারির

মাঝে ঝুলন্ত সেতুটি

 

বিজ্ঞাপনের আলোয় মুখ ঢাকলেন দেবী

লক্ষকোটির গয়না পরে

 

পরে মানে পরানো হল

উল্লাসধ্বনি উঠল চারদিকে

 

বিসর্জন শেষে দেবী লিখলেন ডাইরিতে

'আমি জানি আমি অনন্তের নয়

তবু এটুকুই আমার বিনোদন

এসবেই বেঁচে আছি।'

কুমকুম বৈদ্য

 বৃষ্টির আলাপন


তুমুল কালো মেঘ জমেছে 

মন খারাপের বয়েস বাড়ছে

বৃষ্টি আসছে -

মনখারাপটা চোখের কোণে 

তার  দেয়ালে আকাশ জোড়া মেঘের ছব

 মনের ছবি মন জানে –

 

বৃষ্টি নামল অন্ধকারে

সুখস্মৃতির ঝিলিক মনে

ওলোট পালট হাওয়ার টানে

বাউল মন মাঠে নামে

মাঠ পেরিয়ে মেঠো পথে

ধায় সে পথিক শূণ্য় মনে

 

টাপুর টুপুর বৃষ্টি হয়ে 

মেঘ গুলো সব পড়ল ঝরে

ফর্সা কালো আকাশ ভরে জ্য়োৎস্না ভাসে

 

একটা মেয়ে বৃষ্টি মাখে

ছবি আঁকে মেঘের গায়ে

অলপনা দেয় জ্য়োৎস্না দিয়ে

ঘুমাতে যায় তারার দেশে

 

 

রফিক জিবরান

 একটা শকুন ঝুলে আছে


একটা শকুন ঝুলে আছে জলরঙা পোস্টারে

হিরন্ময় চন্দের সেলুনে—

বৃষ্টির ভেতরে একা, আকাশের গায়ে—কিনারে—

বিলুপ্ত প্রায় পাখির তালিকায়, অভিশাপে হয়তোবা,

মানুষ যদিও জানে

শকুনেরা ফিরে আসে মৃত দেহের টানে—

 

কখনো আউলাঝাউলা দিনে নাপিতের নিবিষ্ট ধ্যানে

হেলানো চেয়ারে উষ্কখুষ্ক চুল— বসে আছে শকুন—

কথা হয় নিরালা নির্জনে, দুজনের ভাবে অভাবে।

 

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

 হৈমন্তী   


সোনালি ধানের গায়ে নবান্নের ঘ্রাণ

ঘাসবেলায় দুপুর উৎসব 

কাস্তের ফলায় খিদের কাব্য লেখে

গ্রাম্য বধূর তামাটে হাত

 

গড়ানো আলো বিদায়ব্যথার রং মাখে

মুখটি আড়াল হলে বিরহের গান 

কেন এই রূপের শিকল? 

 

হেমন্ত ছাড়িয়ে যায় দিগন্তের হাজারো মাইল

 

তারপর শীত যায় বসন্ত যায় আলো আর 

অঙ্গসজ্জা বদল

উঠোনের হাওয়ায় ফুলের টব

সূর্যের কোণ থেকে হোমের উষ্ণতায়

মুখ শুকিয়ে নেয়

একটি হিমেল দিনের স্বপ্ন ডানার আশ্রয় 

ছোট্ট হাঁসের ছানার জলসাঁতার

 

শিশিরকণায় লেখা কুয়াশাজালের সংকেত 

 

 

কৌশিক চক্রবর্ত্তী

 অন্ধ


লিখেছিল কেউ দৃষ্টি ফেরাতে মহাভারতের কথা

বন্দুক থেকে চোখে তাক করে নিশানায় ভুলচুক

অন্ধ সবাই, অন্ধ আমিও, হস্তিনাপুর বেছে

সবাই তুলেছি যুদ্ধের শেষে ধৃতরাষ্ট্রের বুক

 

অন্ধ যারাই চেয়ে থাকে শুধু, আয়নার আশপাশ

সকলে সেখানে নিজেকেই খোঁজে, যেমন দুর্যোধনে

তবু হেরে গিয়ে যখন ছড়ালো পুরনো গয়নাগাটি

খুঁজেছি একটা আস্ত কলিজা, রটিয়েছি জনে জনে

 

এসে গেছে কেউ দরজা ভাঙতে, পরনে বর্ম, খিদে

চুকে গেছে সব জ্বালা যন্ত্রণা, মিটে গেছে ঋণ তার

ঝরে পড়বার খানিক আগেও ইস্পাত নির্মিত

তরবারি খুঁজে শেখাতে এসেছে বেপরোয়া টরচার

 

সাক্ষী রয়েছে সব বন্ধুরা সন্ধ্যে নামার আগে

চোখে দেখতো না অন্ধ রাজাও, যেভাবে দেখেনা কেউ

শবদেহ গুনে বাড়ি ঠিকই ফেরে ভোলেনা ঠিকানা যারা

কুরুক্ষেত্রে মশাল জ্বালতে আজও তারা আসবেও

 

 

 

পিনাকী দত্তগুপ্ত

 পুড়তে পুড়তে


জানো না, তোমায় কতটুকু ভালোবাসি।

জানো না, আমার আলজিভটাই কাটা!

জানো না, তোমায় বুঝতে গিয়েই দেখেছি

আমার মনের অলিন্দটাই ফাটা।

এ সবের পরও বুক চিতিয়েই বলি,

দেখতে কি পাও? পুড়ছে পাকস্থলী?

 

আগুনটা ছিল। নিভিয়ে দিয়েছ। যদিও পুরোটা নেভেনি।

ধিকধিক করে জ্বলছে, পুড়ছে অনিশ্চিতের কাব্য;

কত কত রাত ডেকে ফিরে যায়, মন্দাক্রান্ত বাতাসে,

যদিও দেখিনি জন্মান্তর, তবু একান্তে ভাববো।

 

রাত নেমে এলে কড়িকাঠে বসে পায়রা,

হাত ধুয়ে তুমি  সুরমা লাগাও  যে চোখে

আয়না যদিও ছবি কিছু ধরে রাখে না,

পেন্ডুলাম টা বেজে  চলে চেনা  সে শোকে;

আমি ভাবি ঐ মেঠো চাঁদ নেমে আসলে,

সত্যি কি তুমি আমাকেও ভালোবাসলে?

 

অমরত্বের আকাঙ্খা নেই, ঠোঁটে জমে আছে শব্দ!

চোখে লেগে আছে বিষ্ময় আর বিশ্বাস ভেজা রাত্রি;

যদিও তুমিও মেনে নিয়েছিলে বিভাজন ভরা দুনিয়া,

তবু জেনো রেখো, বিজন-ভূমিতে আমিও তো সহযাত্রী।

 

পশ্চিম মাঠে জোনাকি'রা আছে ঘুমিয়ে

বাতাস ঘুমিয়ে তাল খেজুরের কোটরে

জোছনা লুটিয়ে রয়েছে তোমার বালিসে,

আমি তো এসেছি, ঘুম থেকে তবে ওঠরে;

না কি ফিরে যাবো যেই পথ ফেলে এসেছি?

শূণ্য যে ঘর ভুল করে ভালোবেসেছি?

 

দুই গোলার্ধ, অসমচিহ্ন, বৈমাত্রেয় শৃঙ্খল..

রাত হলে তবু একটাই চাঁদ, একটাই বাঁশি বাজছে,

বিগত জন্ম ঘুমিয়ে রয়েছে বরফের বহু গভীরে,

বুকে হাত দিয়ে বলো, এইবার, একটু কি ভালো লাগছে?

 

 

 

সেমিমা হাকিম

 নিয়ামক.........


তারে শুকাতে দেওয়া শাড়ির রঙ হঠাৎ সাদা হয়ে গেলে

বাড়িঘরও বিবর্ণ হয়ে যায় নিমেষে

শালগাছের পাতা ঝরে যায়

শুকনো ডালে দাঁড়কাক এসে বসে

স্থবির সময় ঝরে পড়ে গালে

নোনা ছোপ মোছার রুমাল দেয় না কেউ বাড়িয়ে

 

সময় ছাড়া আর যা কিছু সত্য

তার ছিল না দায় সহানুভূতির

শুধু উদাসীনতাই ছুঁড়ে দেয় অবহেলে

 

সময় ছাড়া আর যা কিছু বহমান

তার ছিল না দায় অপেক্ষার

মুছে দেয়, পাতা ওল্টায় নতুন কালের

 

তাই

তারে শুকাতে দেওয়া শাড়ির রং হঠাৎ

সাদা হয়ে গেলে

সময় নিচু হয়

একটুকু পিছু ফিরে চুমু খায়

শাল পিয়ালের নতুন মঞ্জরীর মুখে...

.

.

মুজিব ইরম

 কুটুম পাখি

ভর দুপুরে সে এক পাখি অনেক বছর ধরে, ডেকেই যাচ্ছে ডেকেই যাচ্ছে কুটুম আইবো ঘরে! তোমার নামে ডাকে পাখি কুটুম হইবার ছলে, দেখবো বলে বইসা থাকে ডুমুর গাছের তলে। কেউ না তারে ডাকে আহা কেউ না তারে দেখে, তবু তো সে বইসা থাকে জলের ছায়া মেখে। তারে যদি নাই বা ডাকো ডাকবা তুমি কারে, সে তো আহা বসেই থাকে টেলিগ্রাফের তারে! অযুত বিযুত বুবি ফল বুবি গাছে ধরে, সেই বুবি পাড়িয়া রাইখো তোমার ঘুমের ঘরে। ঘুমের ঘোরে শুইনো তুমি ঘরের পিছের আড়ে, একটা পাখি সজাগ থেকে ক্লাস্ত পাখা ঝাড়ে। তারে তুমি ভোরের বেলা পাইবা আশেপাশে, দেখবা তুমি রেজিল পাখি সেই না বুবি মাসে। কতো পথ ঘুরিয়া পাখি তোমার বাড়ির পাশে, লেঠা দিয়া বইসা থাকে সবুজ ঘাসে ঘাসে। তুমি তারে রাইখো ভালা ঘোর নিদানের কালে, সে তো তোমার কুটুম পাখি মনের ডালে ডালে।

উজান উপাধ্যায়

 পাঁচটিটি ভুল


পাঁচ জন্ম কেটে গেল। সাত জন্ম হেঁটে হেঁটে। মৃত্যু হলো সাতে পাঁচে, নক্ষত্র আর যতিচিহ্নে ঝলসেছে সংসার।

এখানে পাথরের পরিপাটি, চুলচেরা বিচারের জলসা বসিয়ে রাখা,

ডুবে গেছে আলোকিয় নৃত্যনাট্যের শ্রমিক অন্ধকার।

 

 

শূন্যে তোমার মৃতদেহ, অসীমে আঁতুড়ঘর।

 

 

জল থেকে জীবাশ্ম - সকলেই বন্ধু আমার। বাদলদার দোকানের পাশে একটা শাদা আলো জ্বলে থাকে

শীতের আদরে মুমূর্ষু হরিণীর ঠোঁটে জেগে থাকা ক্ষণজন্মা ভিজে ল্যাম্পপোস্ট থেকে।

 

 

এই যে লিমিটেড ভার্সানের নন এডিটেড লাইফ স্প্যান-

 

এখানে যা কিছু ভালোবাসা আর ফসল উপভোগের অধিকার - সবটুকু মহাবিশ্বের

টোটাল সাম এশিওরড থেকে আমিটাকে বিয়োগ করে অবশিষ্ট সকলের জন্য।

 

আর যদি কিছু ধ্বংস আর নষ্ট করে ফেলার, নিঃস্বতা অর্জনের অঙ্গীকার-

 

সে শুধু আমার।

 

 

তবুও পৃথিবীতে

 

শত্রু

 

আর

 

মিত্র

 

দুটি পক্ষ থাকে।

 

ভাতের লবনের আর মাতৃজঠরের এত দেউলিয়া ভাঁড়ার-

 

মানুষের মাথা থেকে আজও যুদ্ধ গেলনা।

 

মৃত্যু

 

না ভয়

 

না পরমাত্মার যোগাযোগ-

 

কিছুই শেখালোনা।

 

 

 

মাজহার জীবন / দুটি কবিতা

 দুঃখ


জগৎ যদি দুঃখের কাহিনী শুনতে চায়

তোমার গল্পই আমি শোনাবো জীবনভর

তুমি যদি বেদনার কথা শুনতে চাও

ছোট্র একটা দীর্ঘশ্বাসে বোঝাবো সব

জগৎকে চিৎকার করে বলি

কাউকে ভালবাসিনি কোনদিন

খোদার কাছে কেবল আর্জি আমার

স্বর্গ-নরকের মাঝে একটি গোপন গলি করো

তোমাকে দেখে দেখে ভোগ করবো

এখনকার মতই পলকে পলকে

তোমাকে না পাওয়ার নরক যন্ত্রণাকে

 

গাছ বিষয়ক আক্ষেপ

একটা গাছ হতে চেয়েছিলাম

দরদী ছায়াবৃক্ষের মত

বেলা অবেলায় তুমি তোমরা এলেই

বুক পেতে দিতাম বন্ধুর মত

একটা গাছ হলাম ঠিকই -

একটা বড় গাছের ছায়ায় ছায়ায়

কেমন ছোটই রয়ে গেলাম

বড় গাছটার নিচে,

তুমি তোমরা আশ্রয় পেলে বড়গাছটির কোলে

আমার ছোট্ট ছায়াটি অবহেলায় মিশে গেল

বড়ছায়াটির নিবিড় ভিড়

গৌতমকুমার গুপ্ত

 প্রত্যাবর্তন....


ফিরে আসা কি অতই সোজা কেন এলে

যেভাবে গিয়েছিলে পদক্ষেপ জুড়ে 

    শাণিত মুখে

দৃপ্ত ভঙ্গীর মিলিয়ে যাওয়া ছায়া

এই তো সেদিন খুব অতীত নয়

চিহ্ন কিছু রেখে গেছো অমরত্ব পাবে বলে 

 

ফিরে আসছো জেনে উৎসাহী হলুদ ফড়িং

দোয়েল গৃহপালিত কবুতর কাকাতুয়া 

ঘুঘুর নিরালা ডাকে আরো একবার তুমি

সেই সব উচ্চারণ ফিরে ফিরে আসে

নদীটি স্রোতস্বিনী হয় আকাশে মেঘ ডাকে

গান বাজে দিলরুবা বিলাবল রাগিনী

 

ফিরে এসে দ্যাখো 

         কিভাবে হারালে স্বরলিপি

ইতিহাস দর্শন ভুলে গেলে হরপ্পার স্মৃতি

ধ্বংসের অবশেষে সমান্তরাল ভঙুর 

তোমার ধাতব তরবারি 

 

সেই চেনা মুখ নয় আর

ঝুলে আছে প্রতিষেধক মুখোশ সারি সারি

 

সঞ্জয় সোম

 অন্য জীবন


খোলা আকাশে চলমান হলে হাঁফ-ছাড়ে বদ্ধ শার্সির অসহ্য যন্ত্রণা,

একটা দীর্ঘশ্বাস নতুন জীবনদায়ী উপশম হয়ে দাঁড়ায়।

 

তথাকথিত সামাজিক অভিশাপ

পদদলিত করে চলা আর একটা জীবন।

 

মাঝরাতে ক্লান্তি ছাপিয়ে  ঘুম না পেলে

উজ্জ্বল তারা'রা মৃদুস্বরে বলে 'বন্ধু আমার'...

 

আর একটা সকাল এলে,আয়ু কমে আর একদিন

সহজলভ্য মৃত্যু কাছে আসে আর এক ধাপ।

 

জন্মের কারণ জানা ভীষণই কঠিন,জানে হাতে গোনা,

ততটা সহজ মৃত্যুকথা পড়ার....

 

মৃত্যুকে বড় আপন বোধ হয়

তা প্রভাবহীন,নাটকীয়  সামাজিকতার।।

অরুণ সেনগুপ্ত

 একা প্রিয় একা বড় 


বড় অগোছালো একা প্রিয় 

একা বড় 

 

একদিন খোঁজ পাই, খোঁজ নিতে চাই 

একা আছে 

জানা হয় না তেমন

 

তার-ও তো মনে পড়ে 

শৈশব, লুকোচুরি খেলা 

ভালো ছিলো বড় 

সে-সব দিন 

 

আজ যতদিন থাকা একা বাঁচা 

যতটা বাঁচা গাছের বাকল জড়িয়ে 

প্রতিটি ভোর প্রিয়টুকু খোঁজ নেওয়া 

 

 

প্রতিদিন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে 

চেয়ে থাকে যতটা আকাশ জানালা খোলা 

মৃত্যুর পাশে ছবিতে কেউ 

কতদিন মনে থাকে 

বুজে যাওয়া দিঘি

 

 

ভীষণ একা হ'য়ে যাওয়া প্রিয় 

একাকী প্রিয় কেমন আছো 

খুব মনে পড়ে