১০ম বর্ষ ২য় সংখ্যা ।। ২৯ অক্টোবর ২০২০

 


এই সংখ্যার লেখকসূচি : ঝর্ণ চট্টোপাধ্যায়, গৌতমকুমার গুপ্ত, বিজয় ঘোষ, শৌনক দত্ত, মিলি মুখার্জী, মনিদীপা দাশগুপ্ত, অনিমেষ সিংহ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সুকন্যা সাহা, ইন্দ্রাণী পাল, সুবীর ঘোষ, তুলসী কর্মকার,  রিয়া চক্রবর্তী, মেখলা ঘোষ দস্তিদার, রুমা সরকার বসু, বিবেকানন্দ দাস, সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়, সুতপা সরকার, গোপেশ দে, পীযূষকান্তি দাশ  নাহার আলম 

ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়

 ( এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন মার্কিন কবি লুইস গ্লুক । তাঁর একটি কবিতার ভাবানুবাদ প্রকাশিত হল । অনুবাদ করেছেন ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়)

সন্ধ্যাতারা

লুইস গ্লুক

ভাষান্তর – ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়

অনেক... অনেকদিন পর উন্মোচিত হল আবার

ধরণীর রূপ

 

অন্ধকার আকাশে

দেখা দিল সন্ধ্যাতারা

অপরূপ হয়ে

 

যে আলো দেখা দিল,

সে কি ছিল

মৃত্যুর আলো,

দেখা দিল যেন ঘুম ভাঙ্গানিয়া

 

সন্ধ্যাতারা,

আকাশের একটিমাত্র তারা

আমি তাকে জানি

আমি তাকে চিনি

সে কি গতজন্মের শুকতারা

আমি তাকে দিয়েছি কি আঘাত!

 

সন্ধ্যাতারা,

তুমি আমার প্রথম রাতের তারা

মননে...চিন্তনে, তোমার আলোকে

আমি আবার জেগে উঠি

 

তুমি আমায় অনেক দিয়েছ প্রিয়! 

 

গৌতমকুমার গুপ্ত

 দীপান্বিতার রাতে


রাতে একটি চাঁদ উড়ে এল উঠোনে

ঝকমকে মুখ হলো আমাদের

দু একটি পাখিও

কিছুটা কলহ কল কল কিচিমিচি

ঠাট্টামস্করা থেকে হা হা হাসির হুল্লোড়

বাজির পরমাণু মেতে ছিল পাড়া

বুকের হৃদপিন্ড থমকে ছিল

 পোখরান হল নাকি আবার

জানি না আলো এতো ক্ষুরধার কবে থেকে

এক হাতে আয়ুতারিখ অন্যহাতে পরমায়ু বছর

সকালে বেঁচে ফিরে চা বিস্কুট ওষধি জলপান

খুঁজে পেলাম অক্ষরজ্ঞান কাগজের ভাষা

আজ থেকে বিষম পরিচিতি রেখে

পা বাড়ালাম নিজস্ব অন্ধকারে

আমাকে বিদ্রুপ করছিল উঠোনের মাটি

বাতাসের ফিসফাস

পাখিরা মৃতবৎ চুপচাপ ডালে

শোকের পালনে একপায়ে ঘুম

অ-মানুষকে বিশ্বাস নেই

যা খুশী করতে পারে ইচ্ছে যেমন

বিজয় ঘোষ

 সায়রাবানু কিংবা একটি রাবীন্দ্রিক চিত্রকল্প


 বয়ঃসন্ধির কথা মনে এলেই,আমার সায়রার কথা মনে পড়ে  যায়,  চোখ বুজলে যুবতি দেহ চোখে ভাসে। জানি আপনারা ধরেই নিয়েছেন,  আমার প্রেমিকার নাম সায়রা,যেমনটা হয় আরকি,মানে আরও একটা ব্যর্থ প্রেমের গল্প।আসলে তা নয়,আমার প্রেমিকাই আমার ঘরনি,এই মেয়ে অন্য  কেউ।হয়তো আরও অনেকের প্রেমিকা না হলেও,  স্বপ্নে   আসা যাওয়া  থাকতেই পারে।

 

যেভাবে বয়ঃসন্ধির ছেলেরা মুগ্ধ  বিস্ময়ে  রূপজল  পান করে,   আমিও করেছি।কখনও কখনও সিজন চেঞ্জের জ্বরজারি হলে আমার মা মাথায় জলপট্টি দিতো,আমি জ্বরের ঘোরে ভাবতাম সায়রা বসে আছে শিয়রে।

 

তখন বাজারে প্যারাসিটামল ছিল কি না জানি না,তবে কার্তিকের প্রথম দিকে তিন চার দিন জ্বরে ভুগতাম।সায়রার  কথা  ভেবে, মায়ের  হাতের জলপট্টিও  স্বপ্ন স্বপ্ন সুগন্ধি বয়ে আনতো।

 

এখনও মাঝে মধ্যে সায়রা সঙ্গে দেখা হয়,মানে আমি দেখি,আর  বয়সটা শুধু আমারই বেড়েছে,সায়রার থমকে আছে, ওর পুরো নাম সায়রা বানু।

 

আমার নাম তো আপনারা জানেনই,

শৌনক দত্ত

 কোচবিহার



বিকালের জানালা ক্রমশ গোয়েন্দা সিরিজের পাতা হয়ে উঠছে৷ সিঁড়িঘরের ছায়ায় শুয়ে আছে তামাকপাতার ঘ্রাণ । দক্ষিণে পাঁচিল ঘেরা বাগানবাড়ি...চিঠির শব্দরা চুপচাপ। আযানের সুরে গড়িয়ে পড়ছে সন্ধ্যা, ঘরবাড়ী ডুবে আছে গোধূলির খুনে, মনে হল, আমার চুল উড়ে যাচ্ছে, সাগরদীঘির বিকালগুলো উড়ে যাচ্ছে লেডিবার্ড সাইকেলের পিছন পিছন...রানীবাগানের দিকে।

জলছবির দিন গলে ঢুকে পড়ছে ঘুঘুমারির নির্জনতা... একদিন,ঐ শহরের ভিতরে আমি একজন মানুষ হয়ে বেঁচে ছিলাম

 

 

মিলি মুখার্জী

 শব্দ গুলো ভিজিয়ে দিয়ে


শব্দ গুলো ভিজিয়ে দিয়ে

আবেগ নামে মাঝরাতে

খুন হয়ে যায় স্বপ্নেরা সব

রক্ত ঝরে সেই ক্ষতে ।।

ভাবনা আঁচে মন সেঁকে নিই

হৃদয় কুড়ায়  শিউলি ফুল

কুয়াশা হানা শরত রাতে

পড়লো ঝড়ে সব  মুকুল ।।

মেয়ে রে তোর পোড়া দেহের

ভস্মে উগুক সবুজ  ঘাস

বারুদ গন্ধে মাতলো বাতাস

শরীর জুড়ে অমলতাস !

     মিলি

মনিদীপা দাশগুপ্ত

 বিবর্ন মনসিজ


ধরে নাও হারিয়ে গেছি আমি,

কোনোদিন, কখনও_

পুনর্জন্ম নেবো বলে।

 

তারপর বিষন্ন হলুদ পাতা ঝরা

শীতের সন্ধ্যায়

ধূসর বিবর্ন মনসিজে__

তোমার ডায়েরীর পাতায় আঁকিবুকি

আমার নামের পাশে

দু ফোঁটা চোখের জলে।

 

মন খারাপের পান্ডুলিপি ছুঁয়ে দেখো

আছি আমি, ঠিক যেমনি ছিলাম

তোমার পরিত্যক্ত লিখনী ভাঁজে

নামহীন সম্পর্কের, ধূসর স্মৃতিজালে।।

 

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

 শিকার উৎসব 


দিনের সংখ্যা ভুলে

আমাদের বনবাদাড়

থম মেরে থাকে

এই বুঝি তারা আসে

শক্তিমানের ঘোঁতঘোঁত দম্ভে

প্রাচীন পুরুষের গৌরব-গর্বে

ধর্ষিতা রাত্রির ধ্বস্তবুকে পা

একদল ধর্ষকামী  সোল্লাসে

ছিন্ন করে কিশোরীগুল্ম

 

ভারসাম্য ভাঙাই উৎসব

 

ক্লান্তি তাই মুখ মোছে লুকোনো রুমালে

 

আজ শিকার উৎসব।

অনিমেষ সিংহ

 মহা-নাগরিক


রোদের ঝিলমিল নিয়ে নদীতীরে বসেছিলাম অনেক্ষণ।

 

কাশফুলের বীজ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেলাম,

লৌহ সভ্যতায়।

রোদের ঝিল,

নদীর মিল--

একাকার, দেখতে দেখতে ভাবলাম,

-- থাক্,

কাশফুলের, ফল হয়না,

শুকনো তুলোর মতো,

সাদা প্রজাপতির মতো---

যেটুকু জড়িয়েছে পোশাকে, তার চেয়ে বেশী চাওয়া পাপ।

 

মানুষের দুর্গাপূজা আসছে, মহরম আসছে,  --খুশী আসছে!

--মানুষের কৃষি আসছে...

 

আমি আর কাশফুল তুলব না। নদীকে অনাবৃত করব না আর।

রোদের ঝিল্মিল্ নিয়ে গেছিলাম। তাই নিয়ে ফিরে এলাম।

 

আসার আগে অনেকটা সময় শুয়েছিলাম নদীর সাথে।

পোশাক খুলি নি।

নদী বলেছিল ফসল ফলাতে। পোশাক খুলিনি।

আসার আগে মুখ ভার ছিলো তার।

কী করে বোঝাই। আমার দুটো হাত নেই।

আমি প্রেমের কারুকার্য ভুলে গেছি।

 

রোদের  ঝিলমিল বোঝে, আমি এক আধুনিক রাষ্ট্রের

মহা-নাগরিক

সুকন্যা সাহা

 আফ্রোদিতি


কারা যেন  বলেছিল 

ডালে ডালে ফুল আসে  

তোমার ছোঁওয়ায়...

 

এসো দেবী, মাতি আবার 

জীবনের উৎসবে ,

এই সৃষ্টির  খেলায় ...

 

তির্যক মদন শর হানো 

হৃদয়ে হৃদয়ে , 

পরাগ-সংযোগে ...

 

তুমি না থাকলে 

বলো আফ্রোদিতি 

বসন্ত চিনতাম ? নিভৃতে ?

 

 

 দুগগা কে 

 

তোমার   মূর্তি তৈরী  করি আমি

বাঁশের কাঠামের  ওপর খড় দেওয়া 

মাটি গোলা   জলে  আঙ্গুল  ডুবিয়ে

সেই খড়ের  ওপর প্রলেপ দিই

আমার   ভালোবাসা  আর কামনার  রং  গুলে

নির্মান করি   তোমার   শরীরে

যতক্ষণ খড় মাটি বাঁশ  থাকে

তুমি আমার  প্রেমিকা   থাক...

যাকে  আমি স্বপ্নে  দেখি

যার সঙ্গে আমার প্রেমের যাপন

কিন্তু চক্ষুদানের  পর তোমার   মৃন্ময়ী  মূর্তি আমার মেয়ে  হয়ে যায়...

যা দেবী সর্বভূতেষু কন্যা রূপেন  সংস্থিতা

আর উমা  চলে   গেলে  আমি রিক্ত গিরিরাজ হয়ে   বসে  থাকি

প্রতি বছর...

 

 সম্ভাবনা 

 

আজও সেই শ্যামলা পাতলা দোহারা চেহারার 

ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ে

সেই  ঠোঁটের কোণায় যার কালোজিরে তিল ছিল

আর মুখে আলগা  লাজুক হাসি 

সে আমাকে বলেছিল তোর না

 অনেক বড় কবি হওয়ার  সম্ভাবনা  আছে ...

তার পর  কত স্রোত   চলে গেছে ...

নিভে  গেছে  সময়ের আলো

আজও ম্লান  হয়ে আসা  পড়ন্ত  বিকেলে

সেই ছেলেটির  কথা খুব  মনে পড়ে 

যে কোনোদিন কবি না হয়ে  ওঠা একটা মেয়েকে 

সম্ভাবনার  কথা বলেছিল...

 

 

 

 

 

ইন্দ্রাণী পাল

ছিন্নপত্রের একটি


মনে হচ্ছে এখানেই কোথাও ছিল একটা জানলা

আজ আর নেই

চারপাশ কেমন একটা নিরেট অন্ধকার

এই মাঠ ছুঁয়ে পড়ে আছে অপ্রাকৃত জ্যোৎস্না

 

একটা মানুষ হাত পা ছুঁড়ছে অনেকক্ষণ ধরে

অন্ধকারে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না

শব্দহীন বালি উড়ছে

চোখেমুখে এসে লাগছে তারই কিছুটা

 

আধিভৌতিক জ্যোৎস্নায় তোমাকে লাগছে সুবিশাল

একটা চরের মতো; ছন্নছাড়া ঘুড়ি লাটাই

বাড়িগুলো দাঁড়িয়ে আছে যেন অতিকায় ময়দানব

আমার হলুদ উত্তরীয় উড়ে যাচ্ছে দূরে দিগন্তে

কোনো এক নীলিমার দিকে।

 

 

সুবীর ঘোষ

 দারুবৃক্ষবনে


মাথা কাটলে না কী গাছ বাড়ে ।

সামনের দেবদারুগাছগুলোকে

দেখতে লাগছে যেন এক একটা কণিষ্ক ।

 

আমি যে দেবদারুবনে একদা হাঁটতাম

একা নয়, বেগান্ধ এক বান্ধবীর সঙ্গে ,

সেই বনে দেবদারুদের মাথা আকাশমুখো

নীচে আমাদের বিপজ্জনক খেলনাপাতি

তাই তাদের ঠাহর হত না ।

 

তুলসী কর্মকার

 শ্রুতি যাপন 

 

পাত্রে কিছু বিন্দু বন্দি

খাতায় সযত্নে সাজালে

প্রেম থেকে প্রণয়

অথবা গমন ইতিকথা হয়।

 

এসব বিন্দুর জন্ম নেই 

মৃত্যু নেই

অস্তিত্বের তাগিদে বিচলিত 

আজ্ঞাবহ খুঁট  

যাঁদের গায়ে স্বভাব মাখালে

স্পষ্ট হয় এক আমি'র চলন।

 

রিয়া চক্রবর্তী

 ত্রিনয়ণী


ত্রিনয়ণে আগুন রাখে, চোখের কোণে জল।

জলের তবু নদী আছে, নদীর আছে তল।

 

অভিমানী শরত রানী, শিউলি ঝরা গান।

গানের তবু ছন্দ আছে সুরের  অভিমান।

 

মন উঠোনে উথালপাথাল,আগমনী দিনে।

দুর্গা রানী, শিব ঘরনী,অসুর নেবে চিনে। 

 

খুশির দেখো জোয়ার আসে,পানসি ভাসাক মন।

কাশের বনে, মাঠের পারে চালতা রঙা বন।

 

রূপকথাও চুপকথাতে, মন জুড়োবে কই।

আবাহনের সময় বুঝি এগিয়ে এলো ওই।

 

কান ফুসফুস মন চুপচুপ, কি জানি কি হয়!

ঢাকের কাঠি উঠলো বোলে, দুর্গা মায়ের জয়।

মেখলা ঘোষদস্তিদার

 ত্রাণ


যে মন একলা রিক্ত জীর্ণ সিক্ত,,,

ভীষণ  তিক্ত

ব্যথায় স্পষ্ট

সে তন, হাতড়ে বেড়ায় নীরবে যে চায়

বিপুল আশায়

বেজায় কষ্ট,

 

যে গোধূলি বিবর্ণ সাজে, একতারা বাজে

হৃদয় মাঝে

মরম জ্বালায়,

ফিরে শুধু চাওয়া শূন্য দাওয়া

এই কিগো পাওয়া!

মিথ্যে মায়ায়!

 

তবু পথ চলা,ধ'রে আসে গলা

বাকী থাকে বলা

ব্যাকুল গহন,

ভাবের গতি বাঁকে, যাতনা ছবি আঁকে

ভাবনার ঝাঁকে

চঞ্চল ক্ষণ,

 

একঘেয়ে সব জীবনের স্তব

যাপনের রব

বিপন্ন কায়া,

কেঁপে ওঠে প্রাণ,বিষময় ঘ্রাণ

নেই কোনো ত্রাণ

বীভৎস ছায়া।

 

 

 

রুমা সরকার বসু

 আবর্তন


এই যে এভাবেই বেঁচে থাকা

সহবাসে দ্রবীভূত জীবনের ক্ষয়

প্রতিটি ভাঙন ক্লান্ত হয়েছে গভীর ক্ষতে

যে ক্ষত  জীবনের বন্ধ দরজা খুলে দেয়

 

দেখি ফিকে হয়ে গেছে রোদ

মৃত্যু আকুল ধ্বনি খোঁজে মোহশূন্য পথ

যাবতীয় কোলাহল গর্জন শেষে

নিঃশর্ত সমর্পিত হয় অহংবোধ

 

নির্বান ভুলে স্তব্ধ এ দহনবেলা

বিন্যাসে জমা রাখে রোদের যাপন

বিকিরণ ভুলে প্রাপ্তির ঝুলি ধুলায় লুটিয়ে

তপস্বী আকাশে মেশে পৃথিবীর তর্পন।

 

বিবেকানন্দ দাস

 অপরিণত মানুষ


একটা অপরিণত মানুষকে বয়ে চলেছি

যে দু হাতের করে দুঃখ গুলোকে রেখে গুনতে ভুলে যায়...

 

অভিমান অভিমান খেলতে গিয়ে রোজ হারিয়ে যায়

শাল পিয়ালের বনে প্রজাপতির পিছনে ছুটতে ছুটতে

 

যে একশ তেত্রিশ ক্রোশ সিঁড়ি ভেঙে উঠতে উঠতে

ভুলে যায় কি বলতে এসেছিলো রাণীর দরবারে

 

জুলফিতে রঙ লাগাতে গিয়ে এঁকে ফেলে

ঘনঘোর শ্রাবণের মেঘ জানালার কাঁচে....

 

সব কিছু উজাড় করে দেবে বলে, যে, দুহাত পেতে

দাঁড়িয়ে পড়ে সুন্দরের সম্মুখে

 

একটা অপরিণত মানুষকে বয়ে চলেছি,

যে, পড়ন্ত বেলায় জীবনের সাথে এক্কাদোক্কা খেলে....!

 

 

 

বিবেকানন্দ দাস

 

সুতপা সরকার

 আদি অনাদি সেই আমি


আজকাল ধূসর রঙের সহবাসে

 

তবুও অন্তরীক্ষের লেন্সে

ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা

আনখশির মুগ্ধতার আবেশের

সেই মাননীয় ঔদ্ধত্য

জ্যামিতির কাঁটায় নার্সিসিজম

সূচকে বিদ্ধ হয়

 

আয়নার প্রতিবিম্বে সময়ের মানচিত্র

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছুঁয়ে

 

সেই আঙ্গিকেও আমির মধ্যে প্রতি

নতুন আমির জন্ম চুঁয়ে গলে গলে

পড়ে রাশিকৃত চন্দ্রকলা

 

ভালোবাসি দর্পন তোমাকে

নার্সিসিজমের রোলার কোষ্টারে

ঘুরতে ঘুরতে ভাঙ্গা অথচ

রাজকীয় স্থাপত্যকে-------

 

সুতপা সরকার

দিল্লী-----