তুলসী কর্মকার / দুটি কবিতা

 সাক্ষাৎকার 


বর্ণলেখা থমকে দাঁড়ায়। বার্ধক্য আসবে। জীবনকে টেনে নিয়ে যাবে। হিসেব দিতে হবে অনেক কিছুর। বোধ পিছু ছাড়েনি। যাপন বলতে জীবন্ত হয়ে থাকা সময়। 

 

কিছু বছর আগে........

বর্ণলেখা ঘন ঘন আয়নায় দেখে সুগোল মুখ ডাগর চোখ বাড়তে থাকা বুক। অনেক সময় বাথরুমে নিজের খেয়ালে নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে বারবার হারিয়ে যায়। হাত পা পেটতল তাকে স্বস্তি দেয়। লম্বালম্বা আঙুল ইউ কাট চুল ছিপছিপে চেহারা। বাদামী বলয়। কালচে চূড়। পায়রা দুটি নিটোল। বুক থেকে একটি রেখা নাভির মাঝ বরাবর নীচের দিকে নেমে গেছে অপরাজিতা পাপড়ির কাছে। এসবের হদিস বিশেষ কেউ পায়নি। কলেজ জীবনটা অনিকেত আগলে রেখেছিল। হঠাৎ চাকরি পেয়ে দূরে চলে যাওয়ার পর খামতি আসে। এখন নিজেকে দেখে কথাগুলো মিলিয়ে নেয়। পড়াশোনা শেষ করতেই বাবার চাপে স্কুলমাস্টার অম্লানের স্ত্রী হয়ে যায়। সম্মান বইতে বইতে বর্ণলেখা অতিষ্ঠ। দূর সম্পর্কের জনা পাঁচেক রঙিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু বর্ণলেখার নিস্ক্রিয়তায় ব্যর্থ হয়ে যায়।

 

একুশ বছর আগে..........

বর্ণলেখা পৃথিবীর আলো দেখে। চলতে বলতে বুঝতে কিছু সময় পেরিয়ে যায়। তারপর বেড়ে ওঠা। নমিতা মৃন্ময় সুচেতা রিক ছেলেবেলার সাথি। ওরা সবাই নঙ্কু নঙ্কু খেলত। কয়েকবার বর্ণলেখা যোগ দিয়েছে। সে আজব অনুভূতি আজও লেগে আছে। বাবার চাকরি স্থানান্তরিত হতে বর্ণলেখার স্কুল বদল বন্ধু বদল হয়। অনেক সচেতন শহর। অন্তরের কথা কেউ বলে না। মন্তু ক্লাস এইট এ একবার জড়িয়ে ধরেছিল বুকে হাত দিয়ে চুম খেয়েছিল। ইংরেজি স্যার দেখে মন্তুকে যা পিটিয়েছিল বর্ণলেখার মনে আছে। অবশ্য আরও জন পাঁচেক ক্লাসমেট ঘুরঘুর করত বর্ণলেখা পাত্তা দেয়নি।

 

আজ..........

বর্ণলেখার চোখে ঘুম কম শরীর সাথ দিচ্ছে না। স্বামী ওপারে চলে গেছেন। বর্ণলেখা সমীকরণ আঁকে। সময়ের সাথে সাথে মধুর খোঁজে কেউ না কেউ আসে। বর্ণলেখা অনুভব করেছে প্রকৃত সুখ রমণে আছে। শান্তি আছে ঘুমে। ক্ষতির জন্য দায়ী যাপন। লাভ একটি আপেক্ষিক বিষয়। জীবন ভাবতে থাকে বিশেষ কিছু না পাওয়া হলেও আখের লাভ ধর্ম্মের। 

 

কুড়ি বছর পর........

অজস্র বর্ণলেখা ধর্ম্ম মাথায় নিয়ে বৈতরণী পার হয়।

 

অপার্থিব

 

জনৈক কবচ বিক্রেতা হাঁক দিয়ে যায়

খোলা আকাশের নীচে ভগবান নীল হতে থাকে

আমোদ আঁকতে গিয়ে কথাদের মাতামাতি 

ব্যথারা আনন্দের গেট আগলে দাঁড়িয়ে 

সুখ আর সুখজ কলার ফুলঝুরি 

চলমান ক্যানভাস জুড়ে রঙ রাজত্বের ভেলকি

পছন্দের তালিকা প্রকাশিত 

লালা রসে হাজিরা দেয় উপযুক্ত এনজাইম 

অভাব লেগে থাকে স্বভাবে

লবণ লঙ্কা মাখানো শশাফালি টুকু পাতায় রাখা

ভাবনার ভাবে পেট ভরে 

ভক্তি বিশ্বাস কংক্রিট হলে স্বপ্ন সত্যি হতে জানে

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন