সবর্ণা চট্টোপাধ্যায় / দুটি কবিতা

 এ কেমন নিস্তব্ধতা 


এ কেমন নিস্তব্ধতা? 

অবুঝ ঢেউ আছড়ে আসে তীরে

চোখ টেনে রাখে পূর্ণিমার চাঁদ।

তবু যে অপেক্ষা টিমটিম করে বাঁচিয়ে রাখি অন্তরালে

কখনো টের পাও, হাসির আড়লে কত জল ছাপ

শুকনো পাতার মতো মাড়িয়ে যাই রোজ?

তুমিও বোঝ না। বোঝ না কিভাবে বারবার 

ফিরে আসে মায়াবী জেলিফিশ… 

অজান্তে আঁকড়ে ধরে বালি!

 

কতবার ভিখারির মতো সর্বস্ব তুলে দিয়েছি সামনে

দুহাত পেতে বলেছি, শুধু একটু ভালোবাসা

চাইতে চাইতে কেমন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে রোদ

ভোরের দরজায় টোকা দিয়েছে আর্তনাদ

নিজেকে দেখেছি, হাঁটু গেড়ে, মাথা নীচু, চোখে জল

 

অথচ যার থাকার কথা ছিল, 

স্তিমিত রাত্রির মতো সেও একযুগ একটি কথা বলেনি 

মন খুলে। নীরব নিঃশ্বাসটুকু 

ছুঁয়ে গেছে আমার কল্পনা শুধু

আর একের এক পর যন্ত্রণা লিখে রেখেছি কবিতা মনে করে। ভেবেছ, আমি কত দূরদর্শী… 

কত ভাবুক!

নিঃস্ব এক মানুষ কতটুকুই বা দিতে পারে শুধু ভালোবাসা ছাড়া?

 

 

একটা ম্যাপেল পাতা

 

আমার এক চেনা ছাদের বাড়ি 

সোনার খড় চাউনি

চড়ুই আর ঘুঘু পাখির ফুরুৎ ফুরুৎ।

আর একটা ছোট্ট পৃথিবী

তোমায় ঘেরা উঠোন।

হলুদ ম্যাপেল পাতা পায়ে পায়ে

তুমি খসে পড়ো ওমন শরীর থেকে প্রায়

ভরে যায় ঘর।

কত চিৎকার, আলো আঁধার ঘিরে ধরে।

শুধু চুপ করে থাকো। আমার ভেতর

যেন লুকিয়ে আছো শতজন্ম ধরে।

 

লিখতে লিখতে বেলা পড়ে যায়

ভিজে আসে চোখ

তোমাকে না লেখার যে তীব্র যন্ত্রণা আমায়

বারবার নগ্ন করে দেয় নিজের কাছে, 

তোমাকে বোঝাই।

বলো, বয়স পেরিয়েছে সেসব।

 

বয়স, সে তো শুধু অঙ্কের হিসেব

যাকে মেলাতে গেলে কত যোগ, কত বিয়োগ

গুণ ভাগ

বুঝিনা এতশত। 

শুধু জানি, ভোর থেকে রাত

যে বাতাস আমার শরীর বাঁচিয়ে রাখে রোজ,

তাকে আমি তুমি বলে মানি।

 

প্রতিটা মুহূর্ত যেন এক একটা ঝরে পড়া ম্যাপেলের পাতা

পায়ে পায়ে সারা উঠোন, তারপর ঘর, 

 

গোটা বিছানা বালিশ

 

তারপর

 

নিঃশব্দ মৃত্যুর সাথে জ্বলন্ত চিতায়

 

পেরিয়ে যাওয়া অনন্ত অন্ধকার!

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন