গৌতম কুমার গুপ্ত / দুটি কবিতা

 ক্ষুধাসমগ্র


সহজ ঘাস কথা বলতে চাইলে

করতালি দেয় মাটি

হা হা করে হেসে ওঠে জল

কথার পর কথা বসে যায় পাথরে

নিজেকে জমাট বেঁধে কাঠিন্য রাখে

জীবন গড়িয়ে চলে বন্ধুর আলোয়

 

ভেতরে ভেতরে গোল গোল খিদে জমলে 

চৌকো পরোটা আমাকে বসতে বলে পিঁড়িতে

হাঁ হয়ে থাকে পেটের ধিক্কার

ফিসফিস করে বলে রোসো

তোমার আকাঙ্ক্ষা জানাতেই থাকো

যতক্ষণ না খয়েরী হয় জিহ্বাকোরক

শপিং মলে পা রাখতে গিয়ে প্রতিবারই উচ্ছন্নে যাই

আমার থেকে পিছলে যায় ভারতবর্ষ

প্রজ্ঞা ভুলে দেখতে থাকি তন্তুর নাচন কোঁদন

রক্তে কেমন ঝিলিক মারে বাজার

নেচে নেচে সিঁড়ি ভাঙি একটি দুটি উচ্চতায়

স্বর্গের নীচে ফুটতে থাকে দেবরক্ত

 

সেলফি

 

প্রতিদিনই সংজ্ঞা ঠিক করি

সরলকোণ দেখে নিই তারপর ঝলকানি চমক

চলে যাই স্মৃতিগ্রন্থনে

দেখে নিই চটক মৃদু হাসিটি ফুটেছে কিনা

চুলের আঁধার নেমেছে কিনা টাল খেয়ে কপালে

 

মৃদু ঘামতেলে ঈষৎ লেগেছে কিনা আর্যসুন্দর

নাকি অনার্য ঝুলে আছে গ্রীবায়

চৌকো চিবুকে ফুটেছে কিনা একটি ঝলক 

নৃত্যগীতের মুদ্রা উৎসবের হিমআতর আছে নাকি

আছে নাকি পোশাকের প্রোজ্জ্বল অহংকার?

 

'আমি'গুলি একে একে খুলি 

বর্তমান অতীত সাদৃশ্য ও তফাত কোথাও কিছু

ফিরে দেখা সন ও তারিখের মহাকাল

ত্বকসমগ্রে আমার পুড়ে যাওয়া লবনের দাগ

স্বোপার্জিত খাদ্যপ্রাণে কিছু কিছু আগুনের শ্লেষ

 

আগামীকালও ঠিক হবে নিজস্বী ব্যাকরণ

ফোকাসের নৈঋত অগ্নি ও বায়ু জলবায়ু ছবি

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন