চৈতালী রায় / দুটি কবিতা

 ধারণ


লোকটা মাঝে মাঝেই উধাও হয়—
কোথায় যায়?
ও নাকি পাহাড় আনতে যায়
নদী, কচি ধানের মাঠ
আরও কত কী!

কেন?

তুমি আঘাত করলে পাথর হবে সে
কাঁদালে নদী
ভালোবাসলে সবুজ প্রান্তর
হাসালে ঝর্ণা
আরও সব আছে—

বয়ে আনে কী করে?
কেন!
বুকের ভেতর সব রাখা যায়
জানো না বুঝি?

 

যাজ্ঞসেনী


অগ্নি সম্ভূতা তুমি ,পাঞ্চালি দ্রুপদ-কন্যা ,
বহ্নি-শিখা তুমি ,হে নারী - রূপের বন্যা ।
যে লেলিহান মাঝে জন্ম নিয়েছিলে তুমি - (ভারতভূমি )
কোন পরিচয়ে তুমি চেয়েছো হতে পরিচিতা ?
তুমি কৃষ্ণসখী কৃষ্ণা ,দ্রুপদ কন্যা দ্রৌপদী ,
চাওনি কি তুমি পাণ্ডবের পরিচয়ে , হতে বন্দিতা ?
এ আদি বৈদিক প্রাচীন ভারতবর্ষ - আমার মাতৃভূমি
অপালা -গার্গী-মৈত্রেয়ী-ঘোষার জন্মভূমি
সীতা সাবিত্রীর পবিত্র পুণ্যস্থান।
বলো তুমি হে অগ্নিকন্যা ,বিধাতার আশীর্বাদ ধন্যা-
চিরকুমারীত্ব পেয়েছিলে জানি পঞ্চস্বামীর পরে !
পঞ্চসাগর সেঁচে দেবি ,পেয়েছিলে কি অমূল্য-রতন?
হওনি কি তুমি রাজনীতির ঘুঁটি ?
সত্যপ্রেম ছিল নাকি সে অনাথ-সাগর-হৃদয় প্রতি ?
অগ্নিতেজ ধায় যে চিরকাল অগ্নির বাণে ,
এ সত্য তো ইতিহাস জানে ।
আজও মনে হয় ,তোমার নারীত্বের পূর্ণ পরিচয় ,
অবগুন্ঠনে হলো যে দীর্ণ ! তবুও সে সাগরের শত তরঙ্গ
তোমার বহ্নি তেজে হয়েছে শীর্ণ।
ধর্ম মাঝে ,পত্নী মাঝে ,পরগোত্রে আর
করেছো ব্যক্তিত্ব চূর্ণ ,নারী তুমি কার ?
তুমি শক্তির ,তুমি সত্যের ,তুমি তেজের পরিচয়
তুমি মায়ার কায়া ,যাজ্ঞসেনী প্রলয় ।

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন