বিবেকানন্দ দাস

 অবনী


মানুষ আমাকে বার করে দিয়েছে ঘর থেকে

এখন মধ্যরাতে আমাকে মানুষ ডাকে

- অবনী বাড়ি আছো

আমি মানুষের মঞ্জিল থেকে দুরত্ব হাতড়ে হাতড়ে

প্রতিবার ফিরে আসি মানুষের ঠিকানায়

অবনীও আসে সুড়ি পথ পার করে

এক মাতাল ছায়ার হাত ধরে...

 

মানুষ আমাকে বার করে দিয়েছে ঘর থেকে

এখন মধ্যরাতে মানুষ অরণ্যের দিকে মুখ করে

ডাক পাড়ে- অবনী বনে আছো...

আমি ঝরাপাতা হয়ে উড়তে উড়তে এসে পড়ি

মানুষের বুকের উপরে...

অবনী ও আসে এক ভুলে যাওয়া কবিতার নাম ধরে...

 

--অবনী বাড়ি আছো -- অবনী বাড়ি আছো --

কতকাল শুনে আসছি বাতাসে এ আন্দোলন --

অবনী ঘুলঘুলির ফাঁক দিয়ে দেখে নেয়

মেঘের বুকে জ্যোৎস্নার আঁচড় --

কাঁচের গ্লাসে শেষ পেগ ঢালতে ঢালতে  

থুথু ছিটিয়ে দেয় দিকশুন্যপুরের দেওয়ালে,

তারপর কুপি নিভিয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে ---

অবনী কোথাও নেই, অবনী ঘরে নেই --অবনী বাইরে নেই...

বনে নেই, আকাশে নেই, বাতাসে নেই..

মেঘে নেই, বৃষ্টিতে নেই--- বলে দাও --

অবনী নির্বাসনে গেছে...!

 

যে মানুষ আমাকে বার করে দিয়েছে ঘর থেকে

তারা মধ্যরাতে চুপ করে চেয়ে থাকে

একে অন্যের বুকের দিকে ---

বুকের ভিতর থেকে প্রতিধ্বনি ওঠে - অবনী নির্বাসনে গেছে... !

 

 

1 টি মন্তব্য: