দেবাশিস মুখোপধ্যায়

 বাংলাভাষায় লেখা


এই আকাশ সকাল হলেই এক নতুন খেলায় মেতে ওঠে। রঙিন ডানায় ভেসে যায় আদিগন্ত ব্যোম। চোখও মাতোয়ারা হতে চায়। খেলা জমে ওঠে। খেই পাওয়া যায় না সেই খেলার । তখন ভাবনা আসে কোন খেলাটি খেলব, দিশেহারা মন প্রশ্ন করে নিজেকেই পাখির মতো উড়তে উড়তে...

 

পাখি স্পর্শ পেলেই শাখায় শাখায় আনন্দ বাসা বাঁধে । আকাশ বাতাস উদ্বেলিত হয়ে যায়। চারিপাশের অপরূপ শোভার মাঝে পাখির ডাক ভরিয়ে তোলে যা কিছু শুন্য তা থেকে। শিশিরের আঘাতে পড়ে যাওয়া ফুলগুলি হঠাৎ জীবন খুঁজে পায়। সুমধুর ডানায় ভোরের অক্ষর গান হয়ে ওঠে, খুশির সীমা পার হয়ে যায়...

 

এই পল্লীর পথে পথে কতো পাখি গান। বালিকার পায়ে পায়ে পাখি খুঁটে খায় খুঁদ দানা। সবুজ প্রকৃতি লালন করছে ভালবাসার সবুজ ডানা। চমকিত হয়ে পড়ে পল্লী বালিকার ধীরে আসা ভীরু পায়ের শব্দে আর এই উড়ানের ভিতর একটি গ্রাম কখন পৃথিবী হয়ে ওঠে...

 

এই আকাশ পাখির ডানায় ভরে ভোর নিয়ে আসে আর গাছের গায়ে সন্ধ্যা নিয়ে আসে বন্ধ ডানা। মেঘ আর কুয়াশা ভিজিয়ে দেয় তাদের কখনো কখনো। কিন্তু মালা বা ঘুড়ি হয়ে সুন্দর ডেকে আনে তারাই। কবির চোখে কখন ধরা পড়ে তারা আর অক্ষরে অক্ষরে তৈরি হয় কাব্য সুষমা , স্বর্গ মর্ত্য লোকে লোকে ছড়িয়ে পড়ে সেই কবিতা...

 

এই নদী তার বুকে ছায়া ধরে পাখির। মাঝি ভাই নাও নিয়ে ভেসে যেতে যায় যে পথে উড়ে গেছে পাখি। পাখির ঠোঁটে যেন তার বাড়ির খবর, মাঝি উদ্বেলিত হয়ে পড়ে। ভেসে যেতে চায় তার কাছে যে ঘরে প্রতীক্ষা করে আছে আর তার সুখ দুঃখের কথা উজাড় করছে পাখি বন্ধুকে

 

শান্ত প্রকৃতির মধ্যে মাঝে মাঝে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা হয় একাই, রোদ ছিটানো সেই নিসর্গের শ্যামল প্রান্তরে ভেসে আসে প্রেমিকের চিঠি পাখির মতো ভেসে, সেই চিঠির বয়ানে কতো কথা ফুলঝুরির মতো ঝরে পড়ে। ভালবাসার সেই ছোট পাখির হাত ধরে আসে খুশির রাঙা রাখি, সুখের গাঙে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছা হয় আজ বিকেলের ডাকে চিঠি পাওয়ার পর



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন