পলাশ দাস

 

চাদর টানার শব্দ


 ১.

সমস্ত সাজ খুলে নিচ্ছি ধীরে ধীরে 

দাঁত নখ মাথার চুল চোখের উপরে 

লাগিয়ে রাখা রঙ 

আস্তে আস্তে তলিয়ে যাচ্ছি আলো যেখানে 

শেষ হয়েছিল সেই কুটিরে 

পায়ের জুতো খুলে রাখার পর শব্দগুলো 

নিঃশব্দের শরীর পেয়েছে 

এখন আমি ধর্তব্যের বাইরে চলে যাচ্ছি 

প্রত্যেক দিনের গায়ে লেখা থাকে 

সে ইতিহাস হবে রাত শেষ হলে 

আমি সেই ইতিহাসের শরীরে মিশে যাচ্ছি

সরিয়ে নিচ্ছি হাত পা মাথা সমগ্র শরীর 

একটু একটু করে আমি ধরাছোঁয়ার বাইরে এইবার অনেক সহজ হবে ভুলে যেতে 

এইবার থেকে আর মিথ্যে দিয়ে সাজিয়ে 

দিতে হবে না 

নিঃশব্দের প্রহর রচনা করতে হবে না শব্দ ঢাকার জন্য 

প্রত্যেক পায়ের ছাপ এখন ধাবমান 

আলো যেখানে শেষ হয়েছিল সেই কুটিরের দিকে

ফিরে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে মুছে যাবে

আলোর ভিতরে কয়েকটা পায়ের ছাপ

 

২.

এখানে দাঁড়িয়েও শুনতে পাচ্ছি শব্দের ঝনঝন 

হাওয়ায় গায়ে ভেসে আসা তাদের গান 

জানি এসব নিছক অজুহাত,তবুও 

এ আমারই ফেলে দেওয়া সাজ

এই অধ্যায়ে মানিয়ে নিতে নিতে মেঘ দেখি 

পর্দার আড়াল থেকে যেভাবে ধেয়ে আসতে চায় আলো

এই আলো শেষ হয়ে যাওয়া কুটিরের ভিতর 

বসে থাকি ঠায় 

এখানেই আছে আমার শরীর ও সাজ 

এইবার আর তাদের ধরতে পারবে না 

তোমাদের সে আলোর ভিতর থেকে 

কয়েক মুহূর্ত পথ হেঁটে পৌঁছে গেছি 

দুদণ্ড বিশ্রামের মতো এই কুটিরের ভিতর...

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন